মহসিন আজাদ।। করোনাকালে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামে অর্থমন্ত্রী এ বাজেট প্রস্তাব করেন। বাজেটে বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ মোকাবিলায় পরীক্ষা কিট আমদানি, উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমবে।
নতুন বছরের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমবে সেগুলো হল:
করোনা টেস্ট কিট, পিপিই ও মাস্কের আমদানি শুল্ক, আইসিইউ যন্ত্র, ডায়পার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, চিনি, রশুন, সরিষার তেল, পোল্ট্রি খাদ্য, মৎসশিল্পে ব্যবহৃত উপকরণ, ভূট্টার তৈরী খাবার, দেশী পটেটো ফ্লেক্স, ইলেক্ট্রিকাল সিগনাল যন্ত্রপাতি, স্বর্ণ আমদানির ভ্যাট, কৃষি ট্রাক্টর টিউবস ও গিয়ারবক্সসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি, সব ধরণের লুব্রিকেন্ট, টেক্সটাইল ফেব্রিক্স, সব ধরণের সুতা, ডিটারজেন্ট, দেশীয় প্লাস্টিক পণ্য, কৃত্রিম গ্রাফাইট, জুতা তৈরীর কাপড়, দেশী মোবাইল ফোন, জীবানুনাশক স্প্র্রে যন্ত্র, দেশী ফ্রিজ,এসি রেফ্রিজারেটর কম্প্রেসার, সৌর বিদ্যুত সামগ্রি ও ব্যাটারি, দেশে তৈরী এলপিজি সিলিণ্ডার, ইথিলিন ও ইথিলিন গ্লাইকল এবং বিভিন্ন ধরণের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্যের আমদানি শুল্ক।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী(পিপিই), সার্জিক্যাল মাস্ক ও ফেস মাস্ক উৎপাদন এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোভিড ১৯ নিরোধক ওষুধের ক্ষেত্রেও উল্লিখিত তিন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় এসব সামগ্রীর দাম কমবে। অন্যদিকে মেডিটেশন সেবায় সরকার আগেই মূসক অব্যাহতি দিয়েছে। এবারের বাজেটে সেটা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
স্বর্ণের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই কারণে তুলা বীজ, পাম নাটস, রেফ্রিজেরেটর শিল্পের স্টিল প্লেটের দামও কমছে। বজ্রপাত থেকে প্রতিরক্ষাকারী পণ্য লাইটিং অ্যারেস্টারের আমদানি শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাবে এ পণ্যের দাম কমতে পারে।
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম:
নতুন অর্থবছরের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়বে সেগুলো হল- রঙ, অনলাইন খাবার, অনলাইন কেনাকাটা, বিদেশি টিভি, সোডিয়াম সালফেট, আয়রন, স্টিল, স্ক্রু, আলোকসজ্জা সামগ্রী, কম্প্রেসার শিল্পে ব্যবহৃত উপকরণ, বার্নিশ বাইসাইকেল, আমদানি করা অ্যালকোহল, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন খরচ, গাড়ি, শ্যাম্পু, জুস, ইন্টারনেট খরচ, আমদানি করা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মোবাইল খরচ, চকলেট, বিদেশি মোটরসাইকেল, বডি স্প্রে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নিম্ন স্তরের দশ শলাকার দাম ৩৯ টাকা ও তার বেশি এবং সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের দশ শলাকার দাম ৬৩ টাকা ও তার বেশি, উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ৯৭ টাকা ও তার বেশি এবং অতি উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ১২৮ টাকা ও তার বেশি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ তিন স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি দশ গ্রাম জর্দার দাম ৪০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৫৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর দশ গ্রাম গুলের দাম ২০ টাকা এবং ৫৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০–২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এদিন ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম