রিপন হোসেন সাজু যশোর।। মহামারি করোনা কালে পারস্পরিক যোগাযোগ, লেখাপড়া ও ব্যবসা-বাণিজ্য মোবাইল ফোন ও অনলাইনভিত্তিক হয়ে উঠছে। আর সেই সময়ে এই সেবার ওপর আগামী বাজেটে কর বৃদ্ধি প্রস্তাব গ্রাহকের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বাজেট পাস হওয়ার আগেই বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানি অর্থ আদায় শুরু করে দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন তাতে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ডেটা ব্যবহারের খরচ বেড়েছে। বাজেটে ঘোষণা আসার পর এনবিআর এসআরও জারি করায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই বাড়তি হারে টাকা কাটা শুরু করেছে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।
এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেউ যদি ১০০ টাকার সেবা নেন তাহলে তিনি ৭৫ দশমিক শূন্য ৩ টাকার সেবা পাবেন। বাকি ২৪ দশমিক ৯৭ টাকা যাবে সরকারের পকেটে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আয়-উপার্জনে টান পড়ার মধ্যে এই খরচ বৃদ্ধি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ।
যশোর শহরের গৃহিণী শাপলা খাতুন জানান, তার মা-বাবা ও চার বোন, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ৫ ননদসহ স্বজনদের সাথে করোনাকালে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ করেন তিনি। মোবাইলের খরচ বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই গৃহিণী বলেন, পরিবারের সবার সাথে যোগাযোগ এখন টোটালি মোবাইলনির্ভর। এমনিতে অনেক খরচ হয় মোবাইলে। কিন্তু কথা তো বলতে হয়ই।
সেখানে খরচ বেড়ে গেলে কথা বলা কমিয়ে দিতে হবে। বুয়েট শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম ইমনের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ঘোড়দাহ গ্রামে। তিনি এখন বাড়িতে আছেন। ইমন বলেন, শিক্ষক ও বন্ধুদের সাথে নিয়মিতই ভিডিওকলে যোগাযোগ করি। মোবাইলেও অনেক সময় কথা বলতে হয়। এভাবে যোগাযোগ মেইনটেইন করা তো খুব জরুরি। কিন্তু ব্যয় বাড়লে ডেটা ব্যবহার কমাতে হবে। অতি প্রয়োজনীয় যোগাযোগটাও আগের মতো থাকবে না।
মোবাইলের খরচ বাড়িয়ে গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করাটা ‘মোটেও ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন এই শিক্ষার্থী। বাজেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারে খরচ বৃদ্ধির বিষয়টা না হলেই ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনজিও কর্মকর্তা মাসুদুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সহজলভ্য হওয়া উচিত। দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময়টায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন একমাত্র মাধ্যম। এখনকার পরিস্থিতিতে অল্প দূরত্বেও কথা বলার জন্য মোবাইল ব্যবহার করতে হয়।
এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সদরের নালিয়া গ্রামের কৃষি ও পোল্ট্রি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষ যখন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে, ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়াচ্ছে তখন সরকার ইন্টারনেট, মোবাইলের কল, সিম কার্ডের খরচ বাড়িয়ে দিল। দেশ যদি ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যায় তাহলে এসবের খরচ বাড়বে কেন? তাহলে কিসের ডিজিটাল বাংলাদেশ?
যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, মোবাইল খরচ বাড়ানোটা সাধারণ মানুষের গলায় ছুরি চালানোর মতো হইছে।
এমনিতে সাধারণ মানুষের জীবন যায় যায়। সেখানে এমন অপরিহার্য সেবার ওপর চাপ বাড়ায় বাজেট কোনো উপকারে আসবে না। যশোরের মৌমাছি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা শামছুল আরেফিন উজ্জল জানান, প্রায় এক মাস ধরে তার ছেলের ক্লাস হচ্ছে অনলাইনে। পরীক্ষাও হচ্ছে। সে কারণে ছেলের জন্য সব সময় অনলাইনে থাকতে হচ্ছে, লেখাপড়ায় কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে সেখানেই শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছে। এখন খরচ বেড়ে গেল। করোনার কারণে এমনিতেই অনেকের আয় কম গেছে, সেখানে সব দিক মিলিয়ে আমাদের এটা এখন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। ওই স্কুলের শিক্ষক শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য্য তুপা জানান, তারা প্রায় এক মাস ধরে অনলাইনে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিচ্ছেন। যথারীতি পরীক্ষাও চলছে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম