আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক: ঢাকার সাভারস্থ আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে সরকারী জমি দখল করে ময়লা ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইয়ারপুরের ধনঞ্জয়পুর মৌজায় রাজা-বাদশাহ মার্কেট সংলগ্ন বসবাসের এলাকায় সরকারী খাস জমি দীর্ঘদিন দখল করে ময়লা ফেলার স্থান তৈরী করায় দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মনির মৃধা নামের এক ব্যক্তি এই সরকারী খাস জমি অনেকদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। বর্তমানে এখানে এলাকার সমস্ত ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে।এলাকাবাসী জানান, এই জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য তাদেরকে প্রতি মাসে মনির মৃধাকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হয়। আর ময়লা ফেলার অন্য কোনো জায়গা না থাকাতে তারাও সহজ পথ হিসেবে এখানেই টাকার বিনিময়ে ময়লা ফেলেন। তথ্যে জানা যায়, ইয়ারপুর ইউনিয়নের ধনঞ্জয়পুর মৌজায় ০১ খতিয়ানে এসএ দাগ নং ৯ এবং আরএস দাগ নং ৩৬৮ তে ১২ বিঘা সরকারী খাস জমি রয়েছে।
সরেজমিন এখানে গিয়ে দুইটি পুকুর দেখা গেছে, তবে সরকারী রেকর্ডে পুকুরের কথা উল্লেখ নেই। দুইটি পুকুরের একটি লম্বায় ১৫০ ফুট এবং প্রস্থে ১৩০ ফুট। অন্যটি লম্বায় ২০০ ফুট এবং প্রস্থে ১৫০ ফুট। এই দুইটি জলাশয় ময়লা দিয়েই ভরাট করে উক্ত মনির মৃধা এই খাস জমি দখল করেছেন। তবে এখানে ময়লা ফেলায় এই জায়গা দিয়ে বয়ে যাওয়া নয়নজুড়ি খালের শীর্ণ ধারাটিও ভরাট হয়ে যাচ্ছে ময়লায়। ফলে এই এলাকার কলকারখানার বর্জ্য সহ পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাও বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে মনির মৃধার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই জায়গা আমরা কয়েক পুরুষ ধরে ভোগ দখলে আছি এবং এই খাস জমি নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলাও চলছে। সরকারী খাস জায়গায় ময়লার ভাগাড় করার কোনো ধরণের অনুমতি তার রয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে এধরণের কোনো অনুমতি তার নেই। তবে সরকার যদি তাকে বলে এটা বন্ধ করতে তাহলে তিনি সমস্ত ময়লা পরিস্কার করে জায়গা খালি করে দেবেন। এছাড়া ময়লা ফেলার জন্য স্থানীয়দের থেকে কোনো ধরণের টাকা নেবার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
এব্যাপারে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম