রিপন হোসেন সাজু,মনিরামপুর(যশোর) অফিস।। অবশেষে করোনায় কেড়ে নিল যশোরের মনিরামপুরে সবার প্রিয় গরীবের ডাক্তার খ্যাত ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এমএ ওয়াহাব(৭৮)কে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।
এর মধ্যে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অধ্যাপক ডা: এমএ ওয়াহাব ইন্তিকাল করেন(ইন্নালিল্লাহী——-রাজেউন)। স্ত্রী রেহেনা বানু একই কেবিনের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
ডা: ওয়াহাব মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার মনিরামপুরের নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এবং নিজ গ্রাম হাসাডাঙ্গায় শারিরীক দুরুত্ব বজায় রেখে দুই দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এসএম মশিউর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতীক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা জানাজা নামাজে অংশ নেন। এর আগে সকালে ডা: ওয়াহাবের মরদেহ মনিরামপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌছলে সেখানে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অধ্যাপক ডা: এমএ ওয়াহাবের ছোট ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটো জার্নালিজম বিভাগের অধ্যাপক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানান, ঢাকার ধানমন্ডির বাসায় তার পিতা-মাতা দুজনই করোনায় আক্রান্ত হন ১৫ দিন আগে। এর পর তাদের শারিরীক অবস্থায় অবনতি হলে গত সপ্তাহে পিতা-মাতাকে ল্যাব এইড হসপিটালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড় ১২ টার দিকে ডা: ওয়াহাব ইন্তিকাল করেন।
অধ্যাপক ডা: এমএ ওয়াহাব ১৯৪৪ সালে মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙ্গা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মৃত হাজী ফজলুল করিম মোড়ল। তিনি পাকিস্তান আমলে কেশবপুর থেকে ১৯৬১ সালে মেট্ট্রিক পাশ করেন। তার পর ১৯৬৩ সালে যশোর এমএম কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হন।
মেডিকেল পড়াকালিন ১৯৬৭ সালে তিনি বিয়ে করেন যশোরের শিল্পপতি তৎকালিন জাতীয় পরিষদের সদস্য (মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, বাঘারপাড়া) আহম্মদ আলী সরদারের ছোট মেয়ে রেহেনা বানু হাসিকে। কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস উত্তীর্নের পর তিনি লন্ডনে উচ্চতর ডিগ্রি(এফসিপিএস-এফআরসিএস)অর্জন করেন। পরবর্তিতে তিনি ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যোগদান করেন। তিনি কার্ডিওলজি এবং মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।
হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে তিনি টানা ৩৬ বছর চাকুরি করার পর অবসরে গিয়ে ধানমন্ডিতে গড়ে তোলেন ডক্টরস ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করলেও জন্মস্থান মনিরামপুরের মানুষের প্রতি তার ভালবাসা ছিল অত্যন্ত প্রখর। দেশ বরেণ্য এ চিকিৎসকের কাছে মনিরামপুরের যেকোন মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে খালি হাতে ফেরেননি। তিনি কখনও মনিরামপুরের মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য কোন ফিস গ্রহন করেননি।
এমনকি গরীব রোগিদের বিনামূল্যে ওষুধ কিনে দিতেন। শুধু মনিরামপুরের মানুষের জন্য নয়, কেশবপুরের মানুষের প্রতিও ছিল তার অন্যরকম বালবাসা। মনিরামপুর এবং কেশবপুর উপজেলার মানুষের জন্য তার দ্বার ছিল সব সময় উন্মুক্ত। নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মজিদ এবং শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, এ জন্য এলাকাবাসী তাকে গরীবের ডাক্তার হিসেবে উপাধি দেন।
দানবীর ডা: ওয়াহাব নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মারকাজুল উলুম মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি মনিরামপুর ও কেশবপুরে বেশ কয়েকটি মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রতিষ্ঠিত করেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে এবং পুত্রবধু ডাক্তার হয়ে বর্তমান অষ্ট্রেলিয়ায় চাকুরিরত। ছোট ছেলে তানজিম ইবনে ওয়াহাব ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটো জার্নালিজম বিভাগের অধ্যাপক। অধ্যাপক তানজিম জানান, বর্তমান তার মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম