প্রিন্ট এর তারিখ: জুন ১৬, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৪, ২০২০, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
আহসান টিটু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদীর নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে একটি দানবাকৃতির পাইপ লাইনের জন্য।জাপানের জাইকার অর্থায়নে খুলনা ওয়াসা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ডিজাইন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফকিরহাট উপজেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃত্যুপ্রায় ভৈরব নদী নতুন করে খনন করা হয়েছে। এ অঞ্চলের খাল-বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট বড় সবগুলো চ্যানেল খুলে দেওয়া হয়। ফলে প্রাণ ফিরে পায় নদীটি।
কিন্তু মোল্লাহাটের মধুমতি নদী থেকে খুলনা শহরে বিশুদ্ধ পানি যাওয়ার জন্য একটি বৃহত্তর মোটা পানির পাইপ বিশ্বরোড সংলগ্ন ভৈরব নদীর ব্রিজের নিচে থেকে নেয়া হয়েছে। যে পাইপটি সম্পূর্ন অগভীরভাবে বসানো রয়েছে। ফলে স্রোতের গতি আটকে দিয়ে নদীতে পলিমাটি জমতে সহায়তা করছ পাইপটি।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, যখন ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই পানির পাইপটি এখানে বসিয়েছিলো তখন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই কাজে আপত্তি তুলেছিল। কিন্তু ওয়াসা কর্তৃপক্ষ কারও কথা তোয়াক্কা না করে দানব আকারের পাইপটি অগভীর করে বসিয়ে যায়।
যার ফলে তিনশত কোটি দিয়ে খনন করা এ নদী মানুষের কোন উপকারে আসছে না। একদিকে, নদীতে জোয়ার ভাটা শুরু হয়ে যাওয়ায় উক্ত পাইপটির জন্য নদীতে আবারো পলি পড়ে নাব্যতা হ্রাসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যদিকে, এই নদী দিয়ে কোন নৌকা বা ট্রলার চলাচলেও বাধাগ্রস্থ হয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নদীতে জোয়ারের সময় পানি পাইপে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নদী সংলগ্ন আশেপাশে অনেক বাড়ির পুকুর ও উঠানে পানি উপচে পড়ছে।
এ বিষয়ে নদী খননের ঠিকাদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে তারা একটি লিখিত চিঠির মাধ্যমে পাইপ সংক্রান্ত বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে এখনো তাদের পক্ষ থেকে তেমন কিছু জানা যায়নি।
ফকিরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত বাসনা নতুন করে ভৈরব নদী খনন এবং তা বাস্তবায়িত হলেও নাব্যতা ঠিক রাখতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।