রিপন হোসেন সাজু,মণিরামপুর (যশোর) অফিস।। মণিরামপুরের মশিয়াহাটীতে ভবদহের ভয়ংকর রূপ দেখা দিতে শুরু করেছে। উপজেলার এই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি, স্কুল-কলেজ মাঠ এখনই পানিতে তলিয়ে গেছে। সবে আষাঢ় মাসের শুরু তাই এই অবস্থা, এখনো তো আরও ৩ থেকে ৪ মাস বর্ষার মৌসুম রয়েছে।
রবিবার সরজমিনে এলাকা ঘুরে জানা যায়, কুলটিয়া ইউনিয়নের বাজেকুলটিয়া, সুজাতপুর, কুলটিয়া, মশিয়াহাটী, পোড়াডাঙ্গা, পদ্মনাথপুর গ্রামের অপেক্ষাকৃত নিম্ন এলাকার বাড়িঘরের উঠানে পানি এসে গেছে। মশিয়াহাটী কলেজ, মশিয়াহাটী উচ্চ বিদ্যালয়, হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএইচএমএস বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ তলিয়ে গেছে।
একদিকে করোনা মহামারীর প্রকোপে এলাকার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আবার ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে যশোরের অভিশাপ ভবদহ স্লুইচগেট। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, তারা ভীষণভাবে শংকাগ্রস্থ। তারা আরও জানান, গত দুই বছর বৃষ্টি কম থাকায় ও তিন বছর আগে ভবদহ স্লুইচগেট সংলগ্ন শ্রী নদীতে ছোট খাল খনন করার ফলে পানির চাপ কিছুটা কম ছিল।
এই দুই বছরে পলি জমে খনন করা খালসহ পুরো নদীই ভরাট হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশিত হওয়ার কোন পথই খোলা নেই। এ বছর যেভাবে বর্ষা শুরু হয়েছে এভাবে চলতে থাকলে ঘরের মাঁচার উপর পানি উঠে যাবে বলে তাদের আশংকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছর টেকা, শ্রী ও হরি নদীর ১০ কিলোমিটার পাইলট চ্যানেল খনন করা হয়েছিল।
২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকার খনন কাজ পানি নিষ্কাশনে কোন কাজে আসেনি। যশোর জেলার মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ২৭টি বিলের পানি নিষ্কাশিত করার জন্য ষাটের দশকে ভবদহ স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়।
আশির দশকের শুরুতে ওই স্লুইচ গেট অকোজো হওয়া শুরু করে। সেই থেকে আজ অবধি পানি নিষ্কাশনের জন্য শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে অবস্থা আরও ভয়াবহ হচ্ছে। ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই সমস্যা থেকে তারা কি কোনদিন মুক্ত হতে পারবে না?।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম