আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার ৪৯ আসামির মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বর্তমানে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল আবেদন শুনানির অপেক্ষায়। ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে শুরুতেই ছিল টালবাহানা। এরপর মামলা হলেও তদন্ত নিয়ে শুরু হয় ছলচাতুরি। জজ মিয়া নাটকসহ প্রথম সাত বছরেই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয় ছয়বার।
অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আলোচিত এই মামলার রায় আসে ঘটনার ১৪ বছর এক মাস ২০ দিন পর। ৪৯ আসামির মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেয়া হয়। বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল আবেদন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় মামলাটি।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। প্রশাসনিক সহায়তায় জঙ্গিরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। অল্পের জন্য বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ নেত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। শুরুতে এ মামলাটির তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। যদিও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী আরও দু'টি মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
এই মামলার সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিলো জজ মিয়া নামের সাধারণ এক নিরাপরাধ ব্যক্তিকে দিয়ে স্বীকারোক্তি দেয়া। বিনিময়ে সিআইডি তার পরিবারকে নিয়মিত অর্থ সাহায্য দিতো। বিএনপি সরকারের আমলে সাজানো নাটক গণমাধ্যমের কল্যাণে জানাজানি হয়ে যায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি।
২০০৮ সালের ১১ জুন দেয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। তখন জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতেই হামলার ছক করা হয়েছিল। আর পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছিল হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড।
এর পরের বছরই ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি কর্মকর্তা আবদুল কাহহার আখন্দ। দুই বছর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩রা জুলাই, ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২ জন। এরমধ্যে তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হয় অন্য মামলায়।
সম্পূরক চার্জশিটে যে ৩০ জনকে আসামি করা হয় তাদের মধ্যে নতুন করে বিএনপি নেতা তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরীর নাম আসে। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক।
আলোচিত এই হামলায় পৃথক তিনটি মামলা হয়। তবে, প্রথম সাত বছরেই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয় ছয়বার। এরমধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রথম তদন্ত হলেও তখন কোন প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও গ্রেনেডের উৎস ও মদদদাতাদের শনাক্ত করা হয়নি। তবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেন।
১৩ দফা সময় বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩ জুলাই ,সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়ার মধ্য দিয়ে ভয়ানক এ হামলার তদন্ত শেষ হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৮ মার্চ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫২ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচার কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে, ঘটনার ১৪ বছর এক মাস ২০ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা হয় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। হামলার ঘটনায় বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয় অপর ১১ আসামিকে।
এই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা অনুমোদন ও আপিলের আবেদন হাইকোর্টে পাঠানো হয় ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর। আর গত ১৬ আগস্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট এখন মামলাটির শুনানির জন্য প্রস্তুত।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রিফাত
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম