আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: July 23, 2026, 6:25 am || প্রকাশের তারিখ: January 15, 2019, 2:12 pm
নির্বাচনে ৫০ আসনের মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম হয়েছে: টিআইবি ( পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনসহ )
নিউজ ডেস্ক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকাসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ভোট নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার দাবি করে টিআইবি বলেছে, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, বিতর্কিত হয়েছে।’
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনের এসব অভিযোগ করা হয়।
 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি আসন বেছে নেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। আর এসব আসনে জরিপে দেখা গেছে ৫০টির মধ্যে ৪৭ আসনেই অনিয়ম হয়েছে। ওই ৫০ আসনের ৪১টিতেই জালভোট পড়েছে, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে রাখা হয়েছে ৩৩ আসনে।

 

এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ৪০, জাতীয় পার্টি ছয়, বিএনপি এক, গণফোরাম দুই এবং অন্যান্য দল একটি আসনে জয়ী হয়েছে।

 

এছাড়া এই জরিপে আরও উঠে এসেছে, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জালভোট দেয়া হয়েছে ৩০টি আসনে। আর পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে ২৯টি আসনে। এছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে ২৬ আসনে।

 

এছাড়া প্রতিবেদটিতে বলা হয়েছে, ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয় ২৬ আসনে, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায় ২২ আসনে, আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো হয় ২১ আসনে, ব্যালট বাক্স আগে থেকে ভরে রাখা হয় ২০ আসনে ও প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মারধর করা হয় ১১ আসনে। এছাড়া পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয় ২৯ আসনে এবং ১০ আসনে কোনো এজেন্ট ছিল না।

 

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভোটের দিন সারা দেশে ২৪ জেলায় নির্বাচনী সহিংসতার ফলে ১৮ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০০ জন আহত হন।

 

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীদের জন্য সমতল ক্রীড়াভূমি (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) ছিল না এবং প্রার্থীদের মধ্যেও ছিল না আইন মানার প্রবণতা। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে, তবে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে প্রতিবেদটির গবেষণায় উঠে এসেছে।

 

সংস্থাটির মতে, ’গণতন্ত্রের জন্য এ ধরনের নির্বাচন ইতিবাচক নয়। এটাও ঠিক যে একটা নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র আসে না আবার ধ্বংসও হয় না। ’

 

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, ’নির্বাচনে যদি সমান সুযোগ দেওয়া না হয় তবে গণতন্ত্রে জন্য এটা ভালো নয়। সেই কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলা হচ্ছে। নির্বাচনে সবাই সমান সুযোগ পাবে এটাই বাঞ্ছিত।’

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে। তাই এ নির্বাচন নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।’

 
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম