
চিতলমারী উপজেলা ভূমি (এসিল্যান্ড) অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে ওই জমির এসএ জেএল নং-৬৮, বর্তমান-১১নং-এর ১/১৫০৫নং খতিয়ানের ডি,পি, ৭৮০ নং খতিয়ানের ৩৩২৫/৬৮৮৯ ও ৩৩২৫/৬৮৫১নং দাগ। যার বন্দোবস্ত মামলা নং-৬/চি/৮৭-৮৮, নামপত্তন মামলা নং-১৯৮৮-৮৯। ওই জমি হস্তান্তর যোগ্য নয়। তারপরও একটি চক্র খতিয়ানের আগের ‘১/ ’ চিহ্ন উঠিয়ে দাখিলা ও পর্চা নকল করে ও সরকারি জমি দলিল করেছে।
চিতলমারী উপজেলা সদরের একাধিক ব্যাক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, এই ধরণের অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতির ঘটনা উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে চলেছে। এটাকে ঘিরে শক্তিশালী চক্র রয়েছে।
জমির দাতা মোসাঃ গোলেজান বলেন, সরকার আমাকে এক একর ২০ শতক জমি বন্দোবস্ত দিয়েছিল। তারমধ্যে থেকে লুৎফর কাজীর কাছে ১৮ শতক ও আইয়ুব আলীর কাছে ১০ শতক বিক্রি করি। পরে ওই জমি লুৎফর কাজী বেশী দামে নাজমুল কাজীর কাছে বিক্রি করেছে। আমাকে দেয় নাই। তাই আমি এই আকাম (অপকর্ম) করেছি।
জমির গ্রহীতা মোসাঃ তাসলিমা বেগম বলেন, আমার মা গোলেজানকে আমি দেখাশুনা করি। সে আমাকে ২২ শতক জায়গা রেজিষ্ট্রি দলিল করে দিয়েছে। আমার মা ক্যান, খোঁজ নিয়া দ্যাহেন এই গুচ্ছ গ্রামের বেশীর ভাগ জায়গা-জমি কেনাবেচা হয়ে গ্যাছে।
শৈলদাহ গুচ্ছ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ সাচ্ছু শিকদার, বুলবুল ইসলাম মোল্লা, সাহাব আলী শেখ ও নাজমুল কাজী বলেন, ১৯৮৭-৮৮ সালে সরকার মধুমতি নদীর তীরে জেগে ওঠা চরের খাস জমিতে ৫২ টি ভূমিহীন পরিবারকে এক একর ২০ শতক করে জমি বরাদ্দ দেন। বর্তমানে এই গুচ্ছ গ্রামে ১২০টির বেশী পরিবার বসবাস করে। অনেকেই বন্দোবস্তকৃত জমি কিনে বসত বাড়ি নির্মান করে বাস করছে। এখানের জমি সরকারের আর বিক্রি করে জনগন। মধুমতি নদীর তীরে জেগে ওঠা চরের জমি নিয়ে বহু দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়েছে। এ নিয়ে বছরের পর বছর মামলা-মোকদ্দমাও চলছে। তারপরও সব কিছু উপেক্ষা করে এবার সাব-রেজিষ্টার এস,এম, শাহেদুল ইসলাম শৈলদাহ গুচ্ছগ্রামের সরকারি বন্দোবস্তকৃত জায়গা রেজিষ্ট্রি দলিল করে দিলেন।
এ ব্যাপারে কলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, আমার জানামতে গোলেজান সরকারের কাছ থেকে জমি পেয়েছিল এক একর ২০ শতক। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার সে জমি বিক্রি করেছে। আর কত বিক্রি করবে ?
চিতলমারীর সাব-রেজিষ্টার এস,এম, শাহেদুল ইসলাম বন্দোবস্তকৃত জমির দলিল প্রসঙ্গে বলেন, নিবন্ধন আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী কাগজপত্রের শুদ্ধতার বা সঠিকতার ব্যাপারে সাব-রেজিষ্টার দায়ি থাকবে না। তাই এতে আমার কোন দায়ভার নেই।
এ ব্যাপারে চিতলমারী সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং দলিলটি ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন। সরকারি ১নং খাস খতিয়ান বা বন্দোবস্তকৃত জমি হস্তান্তর যোগ্য নয়। এটা দন্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে এডিসি (রাজস্ব) ও আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রয়োজনে আমরা বন্দোবস্ত বাতিল করব।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম