প্রিন্ট এর তারিখ: জুন ১৫, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ || প্রকাশের তারিখ: জানুয়ারি ২০, ২০২১, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা।। সুনামগঞ্জে বিভিন্ন অভিযোগে ৩৫টি পৃথক মামলার ৪৯ জন শিশু আসামিকে মুক্তি দিল আদালত। মামলার নিয়ম অনুযায়ী রায়ে প্রত্যেকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার কথা থাকলেও শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তাকরে বিভিন্ন শর্তে মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে ৪৯ শিশুকে নিজ বাড়িতে তাদের মা-বাবার জিম্মায় থাকার মামলায় ব্যতিক্রমী এই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন।
কিন্তু এই সময়কালে তাদের ১০টি শর্তে পালন করতে হবে। শর্ত পালনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে আসামিদের অভিভাবক ও তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী এই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, আদালত ৩৫ শিশু অপরাধ মামলায় একসঙ্গে যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন।
আদালত বলেছেন, ‘প্রবেশনের সময় অপরাধে জড়িত শিশুদের বাবা মায়ের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা ও বাবা মায়ের সেবা যত্ন করতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন মানা ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে। প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগাবে ও পরিচর্যা করবে। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পারবে না সহ ১০ টি শর্ত দেয়া হয়। সবার শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেনের লেখা ১০০ মনষীর জীবনী বই ওই ৪৯ শিশুর হাতে তুলে দেয়া হয়।শিশুদের নিয়ে এমন রায় দেয়ার সময় আদালত উল্লেখ করেন, এই রায়ের ফলে ছোটখাট অনেক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলো। শিশুরা তাদের আপন ঠিকানা ফিরে পেল। মা-বাবার দুশ্চিন্তার অবসান হলো এবং তারা তাদের আদরের সন্তানকে নিজের কাছে রেখে সংশোধনের সুযোগ পেল। মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রবেশনে দেয়া এসব শিশু সাধারণ মামলা ও মারামারি মামলার আসামি ছিল।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেছেন, প্রবেশনকালে এই শিশুরা শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করছে কিনা সেটির তত্ত্বাবধান করা আমার দায়িত্ব। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা, পাশে থাকা। তিন মাস পরপর আদালতে এই বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দিতে হবে।