আামদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। এবার পেটের মধ্যে রক্ত পরিষ্কার করা কাপড় রেখেই সিজারিয়ান রোগীর পেট সেলাই করেছেন এক চিকিৎসক। ঝিনাইদহের ক্লিনিকগুলোতে বছরের পর বছর অপচিকিৎসা চলছেই। এমন অবস্থায় ডিবিসি নিউজের অনলাইনে গত বছরের ২৩ আগস্ট ‘ঝিনাইদহে ১৬৯ ক্লিনিক ও ল্যাব লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ আদালতের নজরে আসে। ঝিনাইদহের বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে এক রুল জারির পর জেলার সমস্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টাররের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে সবেমাত্র সদর উপজেলার ক্লিনিকগুলোর তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, এখনো বাকি রয়েছে ৫টি উপজেলার তদন্ত কার্যক্রম। যা শুরু হওয়ার পথে। এরই মাঝে ঘটলো মারাত্মক এক অপচিকিৎসার ঘটনা।
এক সিজারিয়ান রোগীর পেটের মধ্যে রক্ত পরিষ্কার করা (মফস) কাপড় রেখেই সেলাই করেছে ডাঃ আনিছুর রহমান নামে এক চিকিৎসক। কোটচাঁদপুর শহরের সিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। সিজারের ৮ দিনের মাথায় ঝিনাইদহ শহরের আল-আমিন ক্লিনিকে আবার দ্বিতীয় দফা অপারেশন করে ওই রোগীর পেটের মধ্যে থাকা রক্তমাখা কাপড় বের করা হয়। এ নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল গ্রামের পিকুলের সন্তানসম্ভবা মেয়ে রুনা খাতুন সিজারের জন্য ভর্তি করা হয় কোটচাঁদপুর শহরের সিটি ক্লিনিকে। গত ২০ মার্চ সেখানে সিজার করেন জীবননগরের (আদি বাড়ি মাগুরা) চিকিৎসক ডাঃ আনিছুর রহমান। সিজারের সময় রোগীর পেটের মধ্যে মফস রেখে সেলাই করা হয়।
রোগীর স্বজন (খালু ) বাবু মিয়া জানান, কিছুদিন পর রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে ঝিনাইদহ শহরের সমতা ক্লিনিকে ডাঃ সোহেল আহম্মদের দিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্টে পেটের মধ্যে কাপড়ের অস্তিত্ব মেলে। দ্রুত রুনা খাতুনকে শহরের হামদহ এলাকার আল-আমিন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। গত রবিবার (২৮ মার্চ) রোগীকে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করেন ডাঃ জাহিদ। গৃহবধূ রুনা খাতুনের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে দুইবার অপারেশন করায় আর্থিক ও রোগীর শরীরের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছি।
বিষয়টি নিয়ে ডাঃ জাহিদ জানান, রোগীর পেট থেকে রক্ত, পুঁজ ও মফস জাতীয় জিনিস বের করা হয়। তবে রোগী এখন সুস্থ।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকদের আরো সতর্ক ও সচেতন না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর সিটি ক্লিনিকের মালিক জাহাঙ্গীর জানান, ডাক্তাররা তো অপারেশন করেই খালাস। কিন্তু ভুল চিকিৎসার পেক্ষিতে পরবর্তী ঝামেলা তো ক্লিনিক মালিকদেরই পোহাতে হয়। ক্লিনিকের পক্ষ থেকে রোগীকে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
তবে অপারেশনকারী চিকিৎসক ডাঃ আনিছুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। অফিস বন্ধ থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আগে ডাঃ ফাহিম উদ্দীন ও ডাঃ সোহলে রানা নামে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এরা হাটেবাজারে গজিয়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিকে অপারেশন করে রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল। তারা চলে যাওয়ায় হয়তো ডাঃ আনিস তাদের স্থান দখল করেছে।
সিভিল সার্জন আরো বলেন, দায়ী চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কোটচাঁদপুরের সিটি ক্লিনিক সিভিল সার্জন অফিসের বন্ধ তালিকায় থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা আবার চালু করা হয়েছে। এর আগেও কোটচাঁদপুরের এই সিটি ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ডিনা খাতুন নামের এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে, অভিযোগ ওঠে অপচিকিৎসার কারণে তখন প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছিলো।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম