সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা।। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার এক মুচি(চামারজাতির) বাড়িতে দূর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে একটি খড় সহ খেড়ের(খড়ের) ঘর পুড়ে গিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ২ টার সময় তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর পাড়ে বিন্নাকুলী গ্রামের ডুমন রবি দাসের ছেলে ট্রিমল রবি দাস(৩০) এর বড়িতে। তবে এবাই প্রথম আগুন লাগা নয়। এর আগে ২ বছরে তাদের বসত ঘরসহ ৫ থেকে ৬ বার আগুন লাগিয়ে দেয় কে বা কাহারা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ডুমন রবি দাসের পরিবার সূত্রে জানাযায়, আজ রাতের কোন এক সময় কেবা কাহারা ডুমন রবি দাসের বসত ঘরে পাশেই থাকা খড়ের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে রাত প্রায় ২ টার সময় তাদের ছেলের প্রাকৃতিক ডাকে ঘরের বাহির হলে দেখতে পায় খড় সহ খড়ের ঘরে আগুন দাও দাও করে আগুনে সবকিছু পুড়ে যাচ্ছে দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের বাড়ির প্রায় শতাধিক লোকজন এসে রাত ২ টা থেকে ভোর সকল ৬ টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিবাতে সক্ষম হয়। তবে আগুন নিবানোর আগেই তাদের ১৩ কেয়ার(৩০ শতাংশে ১ কেয়ার) খেতের বন (খড়) সহ বনের ঘর পুড়ে গিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতি বচ্ছর ২ বার আগুন লাগিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে ডুমন রবি দাস বলেন,
এর আগের বছরেও কেবা কাহার খড়ের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘরসহ পুড়ে গিয়ে প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়। এর আগে আরও একবার আমাদের বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। গত ২ বার ৪ বারে আমাদের বসত ঘরে, লাকড়ির ঘরে, ২ বার খেড়ের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে আমাদের প্রায় ৩/৪ লাখ টাকার ক্ষতি করে । কে বা কাহারা আগুন লাগিয়ে দেয় তা এখনো আমরা জানিনা। কেন করে তাও জানি না। আমার এখন প্রতিনিয়তই দিন রাত ভয়ে মধ্যে থাকি। রাতে আমাদের পরিবার সহ আশপাশের কেই ভয়ে ঘুমাই না। আমার এর প্রতিকার চাই।
বিন্নাকুলী গ্রামের প্রতিবেশী রাবিয়া খাতু(৫০) বলেন, শুধু খালি তারারই ঘরে আগুন লাগে কেমনে লাগে কেউই জানেনা। আমরা প্রতিবেশি তাদের চিল্লাচিল্লি শোনে আমরা আই। না আইআয়া পারিনা। জানিনা কে এই কাজ করে। কেন করে তাই বুঝিনা। আমাদের বাড়ি তাদের পাশে হওয়ায় আমরা আমরাও এখন ভয়ের মধ্যে আছি। না অহলে কোন এক দিন আমাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে আমাদের সবাইকে পুড়িয়ে মেরে ফেলবে। আগে তারা মদ বাছত (বিক্রি) তাই বোঝতাম মনে হয় মদ না দেয়ার কারণেই মনে হয় আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু এখন তার ২/৩ বছর ধরে মদ ও বেছেনা এখন কেন আগুন লাগে আজানিনা। কোন দিন যানি এরার সবাইকে আগুনে পুড়িয়ে মারে।
প্রতিবেশী জামিত্রী রবি দাস(৪৫) জানান, যতবার আগুন লাগে সব সময় ঘুমের মাঝে আগুন লাগে। আগুন কেন লাগে জানিনা। আমরা আগুনের ডরে ২/৩ বছর ধরে শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা। এরকম হলে আমরা এখন কোথায়া যাব কি করব জানিনা। আমরা এর প্রতিকার চাই।
প্রতিবেশী আছিয়া খাতুন(৫৫) বলেন, কিতাল্লাগি আগুন লাগে আমারা জানি না। এরা কেই কারো ক্ষতি করে না কারো ওরের ভাতাও আনেনা কেনে তাদের সাতে এত শত্রুতা। আজ আমর না আইলে তাদের মানুষ আগুনে পুড়ে মরত।
ডুমন রবি দাসের বড় ভাই উত্তম রবি দাস(৩৮) বলেন, আমরা কারো ক্ষতি করি নাই। কারো সাথে ঝগড়াও নাই কেন তারা আমাদের সাথে এরকম করে আমাদের ক্ষতি করে জানিনা। আমরা যত বারেই আগুন লাগে ততবারেই চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমাণ্য লোকদের জানাই। কিন্তু এর কোন প্রতিকার পাই না। আমরা এখন এর থেকে বাচতে চাই। আমাদের পরিবারে ১৫ জন সদস্য আছে। কোনদিন আগুনে সবাই পুড় মরি জানিনা। আমাদের আশপাশের আরও ৪ পরিবার আছে তাদেরও জমিজমা খড় খের আছে কিন্তু তাদের এরকম ঘটেনা। শুধু আমাদের ঘরেই আগুন লাগে বোঝিনা।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম