সঞ্জয় কর্মকার যশোর থেকে।। কলগার্ল সুমি ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের ৪ জনকে খুঁজছে পুলিশ যশোরের আলোচিত কলগার্ল সুমি ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আসছে আরো তথ্য। ওই চক্রের পলাতক ৪ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ।
এদিকে, একটি ব্লাকমেইল অপরহণ চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় আটক সুমিসহ ৩ জনের জামিন করাতে দৌড়ঝাঁপ করছে একটি চক্র। সহজ সরল লোকজনকে ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রটির মুলোৎপাটনের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
গত ১৮ জুলাই ফেসবুক প্রতারণার মাধ্যমে ঝিনাইদহর কালীগঞ্জ উপজেলার মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের ফ্রিজ মিস্ত্রী সাকিল আহমেদকে ডেকে এনে যশোরে বিভিন্ন এলাকায় বাসা নিয়ে আস্তানা গাড়ে মণিরামপুরের সুমি। যশোরের ঝুমঝুমপুরে এক মেম্বারের বাড়ি ভাড়া থাকা এই সুমি ইছালী এলাকার ছয় জনকে কাজে লাগিয়ে ব্লাকমেইল করে সাকিল আহমেদকে। চক্রটি সম্প্রতি ইছালী এলাকায় সিন্ডিকেট পরিচালনা শুরু করে।
বাঘারপাড়ার কৃষ্ণনগরের হাফিজুর রহমানের ছেলে মারুফ হোসেন, কোহিনুরের ছেলে সুজন মন্ডল, রামকৃষ্ণপুরের চান্দি আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন, মনোহরপুরের খলিলুর রহমানের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, রামকৃষ্ণপুরের দুলাল মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা, মানিকদিহির পশ্চিমপাড়ার জিয়াউর রহমানের মেয়ে সোনালীকে সাথে নিয়ে ব্লাকমেইল কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সাকিল আহমেদকে একটি ঘরে আটকিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তাকে অপহরণ করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকটি স্পটে আটকে নগদ টাকা মোবাইল ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। এরপর আবারো সাকিলকে মারপিট করে নতুন স্পটে নেয়ার সময় পাবলিকের হাতে ধরা পড়ে চক্রের সদস্য মারুফ। মারুফকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করে জনতা। পরে আটক করা হয় সিন্ডিকেট প্রধান সুমি ও তার সহযোগী সোনালীকে।
অভিযানের সময় পুলিশ ঘটনার শিকার সাকিল আহমেদের একটি বাজাজ ডিসকভার ও আসামি সোহাগের একটি টিভিএস হান্ড্রেড মোটরসাইকেল জব্দ করে। ১৯ জুলাই থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আটক সুমি ও তার দুইসহযোগীকে আদালতে চালান দেয়া হয়। তবে জেল হাজতে থাকা সুমিসহ ৩ জনকে জামিন করাতে একটি চক্র দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একরামুল হুদা গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের পলাতক ৪ জনকে খোঁজা হচ্ছে। ওরা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। এছাড়া সিন্ডিকেটে আরো যারা আছে তাদের খুঁজে বের করা হবে। সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কর হবে।
এদিকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে যশোর শহর ও শহরতলীসহ কয়েকটি উপজেলা শহর চষে বেড়িয়েছে এই কলগার্লদের হোতা সুমি। সম্মানীয় ও ধনী খরিদ্দারদের র্টাগেট করে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। কখনও সাজানো থানা পুলিশ, আবার সাজানো ডিবি পুলিশ এনে ভড়কে দিয়ে টাকা কামিয়েছে। মান সম্মানের ভয়ে কাড়ি কাড়ি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন ভূক্তভোগীরা, আবার তারা মুখও খুলতে পারেননি।
মাঝে মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সুমি চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়লে তারা বার বার বাসা পরিবর্তন করে সটকে পড়েছে। এছাড়া নাম পরিবর্তনসহ অনেক স্থানে আস্তানাও গেড়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর যশোরের মাইকপট্টির একটি আবাসিকে এক কলেজ শিক্ষককে নিয়ে অনৈতিকতায় লিপ্ত হয় সুমি।
একটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা গোপন খবর পান এক শিক্ষককে নিয়ে মাইকপট্টি এলাকার একটি আবাসিকে সময় কাটাচ্ছে কলগার্ল সুমি। ওই খবরে সকাল আনুমানিক ৮ টায় ওই আবাসিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আটক হয় তাদের। তবে ওই সময় কলেজ শিক্ষক এক লাখ টাকা দিয়ে মুক্ত হন থানা থেকে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম