আলাউদ্দিন মাগুরা প্রতিনিধি।। মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামে অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে ফসলি জমির মাটি জোরপূর্বক স্কেভেটর দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী মহল। চলছে ফসলী জমির মাটিকাটা উৎসব। ফসলী কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে পুকুর-ডোবায়। দিন দিন ফসলের উৎপাদন কমছে, বেকার হচ্ছে কৃষক,পরিবেশ হচ্ছে দূষিত এর সঙ্গে জড়িত কিছু অসাধু ভূমিদস্যু।
গত কাল শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মধুমতি নদের তীরবর্তী বাগবাড়িয়া এলাকায় এক একর এর বেশি ফসলি জমির( সরিষা থাকা অবস্থায় )মধ্য থেকে প্রায় ২৭ শতাংশ জমি থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে। এতে জমিতে প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জমির মালিক মোহাম্মদ সাঈদ মোল্লা (৬০) জানান,গত দুইদিন ধরে বাগবাড়িয়া গ্রামের আওয়াল বিশ্বাসের ছেলে মোঃ সোহেল বিশ্বাস(৩০) ,আব্দুর রহিম বিশ্বাসের ছেলে বদিয়ার বিশ্বাস(৩৮), জবেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে ইমদাদ বিশ্বাস(২৮), বক্কার মোল্লার ছেলে অনিক মোল্লা(২৮) ও আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে শাহিনুর(৩৫) সহ কতিপয় লোকজন আমার ফসলি জমির মাটি জোরপূর্বক স্কেভেটর দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
উক্ত বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে বলা হলেও কোন কথা না শুনেই জোরপূর্বক মাটি কাটতে থাকে। এমতাবস্থায় আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হই এবং মাগুরা সদর থানা থেকে পুলিশ এসে সরেজমিনে ০৪ টি ট্রাক ও একটি এস্কেভেটর জব্দ করে। আমি প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে মোহাম্মদ খাজা নাজিমুদ্দিন, মুরাদ মোল্লা ও কালন মোল্লা একই দাবি জানান এবং যাতে পরবর্তীতে এরকম দুঃসাহস দেখাতে না পারে এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করেন। এছাড়া আরোও তারা বলেন,অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা থানায় রয়েছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত সোহেল বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি জানান,আমরা মাটি কাটতে ছিলাম এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরে থানা থেকে আমাদেরকে ডাকা হয়েছে আমরা বিষয়টি থানাতেই মীমাংসা করব।অপর অভিযুক্ত সাহিন মোল্লা মাগুরা জেলার পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এন কামরুল ইসলাম বলেন,কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলায় এর উর্বরতা হারিয়ে যায়। তবে ভূমিদস্যুরা যেভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে, তাতে ওই সব এলাকার কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এ ছাড়া ওই এলাকার নদী ভাঙন ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে। উক্ত অভিযোগের তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে যেয়ে চারটি ট্রাক ও একটি এস্কেভেটর পায় এবং সেগুলো কে জব্দ করা হয়েছে এ বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম