আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। গোপালগঞ্জে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নের পার চন্দ্র দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন মিঠুন মোল্লা (২৪), সুমন মোল্লা (২৮), নাসির মোল্লা (৪০), একরাম শেখ (৫০), সিরাজ শেখ (৫৫), হেমায়েত মোল্লা (৫০), মাসুদ মোল্লা (৩৫), জরিপ শেখ (২৫), সাবের মোল্লা (২০), আকাশ মোল্লা (১৬), বুলবুল মোল্লা (৩৫), আরিফ মোল্লা (৩০), রবিউল মোল্লা (৩৬), তুহিন মোল্লা (৩০) ও বদর মোল্লা (৪০)। এর মধ্যে মিঠুন মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসী ও হাসপাতালে আহতদের সূত্রে জানা গেছে, শুকতাইল ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান রানা মোল্লা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে গত সোমবার বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকরা বন্দুক, এয়ারগান ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘ঘটনার সময় আবেদ শেখের লোকজন ছরড়রা গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ’
এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ শেখ বলেন, ‘রানা মোল্লা চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই দলবাজি ও গ্রুপিং শুরু করে গ্রামে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য তাঁকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। ’ আবেদ শেখ জানান, সংর্ঘষ চলাকালে দুই-তিনটি বাড়ি ও একটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান চেয়ারম্যান রানা মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর পলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. সাব্বির রহমান বলেন, আহতদের অনেকে এয়ারগানের ছোড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিচিত্র কুমার বিশ্বাস জানান, আহতদের মধ্যে ১১ জন গুলিবিদ্ধ। এর মধ্যে একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করেনি।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/কম
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম