প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ৫:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ১২, ২০২২, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সাভারে পৃথক হত্যাকাণ্ডে আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক সাভার।। সাভার পৌর এলাকার জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটির একটি জলাশয় থেকে আজ দুপুরে মামুনুর রহমান পাপ্পু (২৬) নামের এক যুবক ও ব্যাংক কলোনি এলাকায় সামিয়া আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে পাপ্পু নিখোঁজ হয়। এরপর তার বাসার কাছে জলাশয় থেকে তার লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগ এনে তিন যুবক-কে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে তাদের-কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পৃথক ঘটনায় গৃহবধূ ও যুবক-কে হত্যার অভিযোগে চারজন-কে আটক করেছে পুলিশ। আটক কৃতরা হলেন জাকারিয়া হোসেন ছেলে সাদনাম সাকিব হৃদয় (৩০) সাভার পৌর এলাকার টকু মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২৩) ওমর আলীর ছেলে পাপ্পু (২২) ও নুরুন্নবীর ছেলে রাজু (২০) প্রত্যক্ষদর্শী রাজু জানায়,বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে পাপ্পু দাঁড়িয়ে ছিল হাউজিং সোসাইটি মাঠে। এসময় রুহুল আমিন এসে পাপ্পুকে একটি অটোরিকশায় উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ থাকে পাপ্পু।
হত্যাকারী সন্দেহে আটককৃত রুহুল আমিন বলেন, বৃহষ্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে রংধনু হাউজিংয়ের মাঠে রুহুল আমিন ও তার দুই বন্ধু আসে। এ সময় সাদা পোশাকে পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া করলে অটোরিকশা রেখে পালিয়ে যায় রুহুল আমিন ও তার বন্ধুরা। তিনি আরোও বলেন পাপ্পু ভয়ে পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ থাকে। রুহুল আমিনের এমন ধরনের কথায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
অপরদিকে সামিয়া রহমান (২৫) নামের এক গৃহবধু-কে হত্যার অভিযোগে স্বামী সাদমান সাকিব হৃদয়-কে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ওই গৃহবধূর মামা আশিকুর রহমান বলেন,রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় স্বামীর বাড়িতে গৃহবধূ সামিয়া রহমান-কে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী হৃদয়-কে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ,বিয়ের সময় সামিয়া-কে দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণের গহনা-কে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুর -শ্বাশুড়ির সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরেই সামিয়া-কে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গত ৫ বছর আগে হৃদয়ের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে সামিয়া-কে বিয়ে দেওয়া হয়। সামিয়ার দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সামিয়ার ছোট মামা আশিকুর রহমান ইছা বলেন,বিয়ের সময় সামিয়ার বাবা ও মামারা মিলে ২৫ ভরি স্বর্ণের গহনা,মোটরসাইকেল ও তিন লাখ টাকার ফার্নিচার দিয়েছিলেন। বিয়ের পরপরই কৌশলে শাশুড়ি জায়েদা পারভিন সামিয়ার গহনা হাতিয়ে নেন। স্বর্ণের গহনা নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা কাটাকাটি হতো সামিয়ার। গহনা নিয়ে কথা বললেই সামিয়া-কে মারধর করতো।
এছাড়া গতকাল বেলা তিনটার দিকে সামিয়া ফোন করে আমাদের জানায় ওকে মারধর করছেন ওর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি। বেলা তিনটা ৩৭ মিনিটে সামিয়ার স্বামী আমাদের ফোনে জানায় সামিয়া স্টোক করেছে তাকে এনাম মেডিক্যালে নেওয়া হয়েছে। এনাম মেডিক্যালে গিয়া আমরা মরদেহ দেখতে পাই। স্বর্ণ নিয়ে কথা বলায় ওরা সামিয়া-কে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। এঘটনায় তিনজনের নামে মামলা করেছে বাবা মিজানুর রহমান। নিহত সামিয়া আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গায়ের থানার মিজানুর রহমানের মেয়ে।
উক্ত বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে আমাদের কন্ঠ প্রতিবেদক-কে তিনি বলেন সামিয়া-কে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী সাদনাম সাকিব হৃদয়-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’টি ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া আজ দুপুরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম