নিজস্ব প্রতিবেদক সাভার।। সাভারের নামাবাজার এলাকায় বংশী নদীর তীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০ টা সাভারের নামাবাজার এলাকায় শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড,স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি সাভার পৌরসভা ও স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান।
উক্ত বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে আমাদের কন্ঠ প্রতিবেদক-কে তিনি বলেন ২০১৪ সালে যেটি আমরা বলেছিলাম যে প্রায় ২ থেকে ৩ একর জমি এভাবে অবৈধ ভাবে দখল হয়েছে, সময়ের পরিক্রমায় এই পরিমাণ এখন ৬ থেকে ৭ একর বলে আমরা ধারণা করছি, তবে এখানে অন্তত ৩ শতাধিক স্থাপনা রয়েছে।
অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে দখলদাররা ভোগ দখল করে আসছিলো। ফলে নদী হারাচ্ছিলো নাব্যতা এবং নদীর পার দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারনে বিঘ্নিত হচ্ছিল সাধারণ মানুষের চলাচল।
এছাড়া তিনি আরোও বলেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই দিনব্যাপী এই ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে,প্রয়োজনে দুই দিনের পরেও এই অভিযান চলমান থাকবে। ইতিমধ্যে সকাল থেকে আমরা প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। যেহেতু শর্ট নোটিশে এই অভিযান শুরু হয়েছে,এখনো কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকানের মালামাল অপসারণ করছেন,আমরা মালামাল সড়িয়ে নিতে তাদের সুযোগ দিচ্ছি,একইসাথে অভিযানও চলমান রয়েছে।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন,বংশী নদীর পাশে সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২ কিলো মিটার এলাকা দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করেছে দখলদাররা। আর বংশী নদীর দখলকৃত এসব জমি উদ্ধারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
সারা দেশের ন্যায় নদীর দুপাশে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে সাভারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। দুই পাশের সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এই অভিযান চলবে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং নদী প্রশস্ত ও নাব্যতা রক্ষার লক্ষ্যেই এই অভিযান চলছে।
সাভার নাগরিক কমিটি ও পরিবেশবাদী সংগঠন নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা বলেন,দেরিতে হলেও নদীর জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ-কে আমরা স্বাগত জানাই, আমরা চাই নদী তার প্রাণ ফিরে পাক,অবৈধ দখল দারদের কবল থেকে মুক্ত হোক। অভিযানে যেন কোন প্রভাবশালীর স্থাপনা-কে ছাড় না দেওয়া হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে।
উল্লেখ্য ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রশাসনের করা অবৈধ দখলদারদের তালিকায় নাম আসে,এদিকে অভিযানকালে নামাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার প্রতিটিতেই রয়েছে পৌরসভার হোল্ডিং নাম্বার ও বিদ্যুৎ সংযোগ আছে।
তবে এসব স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রসঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ ৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোল্লা মো: আবুল কালাম আজাদ,বলেন সাধারণত জমির মালিকানার কাগজ দাখিলের পরই কোন স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এই স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ অনেক আগে দেওয়া হয়েছে যার কারনে এই মুহুর্তে ফাইল চেক না করে এবিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। এখন হয়তো সময় এসেছে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার।
অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইউএনও'র নেতৃত্বে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা,পানি উন্নয়ন বোর্ড,আনসার,ফায়ার সার্ভিস, সার্ভেয়ার,স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম