আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: September 12, 2026, 1:30 am || প্রকাশের তারিখ: October 16, 2019, 7:30 am
পাইকগাছা থানার পরিতাক্ত ভবনের নিচে পরিচয়হীন বৃদ্ধার প্রায় ৪৫ বছর
মোঃ শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা প্রতিনিধি :আজ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ পূর্বে পরিচয়হীন আনুমানিক ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা নারী পাইকগাছা থানা এরিয়ায় এক পরিত্যাক্ত ভবনের নিচে খেয়ে না খেয়ে, রোগ-শোকে, স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ঘটনাটি খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার। ভবনের ইট, বালুতেই মিশে গেছে তার জীবনের (প্রায় ৪৫ বছর) অনেকটা সময়।

স্বপ্নগুলো আজ বড় ফ্যাকাসে, চোখে আপনজনের ছবি ভাসলেও তাদের কাছে ফিরে যাওয়া আজ এক দুঃস্বপ্ন। তার স্মৃতিশক্তি নেই বললেই চলে, বয়সের ভারে সবকিছু মুছতে বসেছে তার মস্তিষ্ক থেকে। চোখে মুখে তার স্বজন হারানোর ছাপ, কাছে পেতে চান আপনজনদেরকে। কিন্তু আজও বাড়ি ফেরার রাস্তা খুজে পাননি বা কেউ দেখাইনি সে পথ। এভাবে কেটে গেছে পাইকগাছা থানা এরিয়ায় পরিত্যাক্ত ভবনের নিচে ভীনদেশী এক বৃদ্ধা আমেনার প্রায় ৪৫টি বছর।

তিনি এখন আর আগের মত চলাফেরা করতে পারেন না। দিন রাত কাটে এক অন্ধকার পরিত্যাক্ত ভবনে শুয়ে বসে। তবে ২০০৬ সালে তৎকালীন পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ জি এম এনামুল হক, সাবেক মেয়র প্রায়ত এস এম মাহবুবুর রহমান ও ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ কামরুল হাসান টিপু এর সহযোগিতায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এর মাধ্যমে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে তার ভরন পোষন ও খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন থানা কর্তৃপক্ষ।

শুকনো খাবার (রুটি জাতীয়) ছাড়া অন্য কোনো কিছু তিনি পছন্দ করেন না। বয়সের ভারে ও প্রিয়জনের অপেক্ষায় অশ্রু ঝরতে ঝরতে আজ তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন। কেউ পাশে গেলে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে হাতের ইশারায় বুঝাতে চান মাথার ভিতর যন্ত্রণার কথা। বর্তমান এই বৃদ্ধা নারীর নিয়মিত খোজ খবর রাখছেন পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইমদাদুল হক শেখ, ডি.এস.বি মোঃ মাসুম ওহাব এবং পাইকগাছার একটি সামাজিক সংগঠন “মানব কল্যান পরিবার’’ এর সদস্য তরুণ সাংবাদিক অনলাইন শিবসা নিউজের বার্তা সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম।

জীবনের এই শেষ সময়ে বৃদ্ধা আমেনা তার প্রিয়জনদের কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। তার প্রতীক্ষার সময় যেন শেষ হচ্ছে না। বৃদ্ধার নাম পরিচয় জানতে চাইলে কাঁদো-কাঁদো কণ্ঠে থেমে-থেমে তিনি তার ভাষায় বলেন, “হামারা নাম হ্যায় আমেনা খাতুন, দাদাকা নাম আহম্মেদ খাঁ, আব্বাকা নাম হাকিম খাঁ, আম্মাকা নাম গাউচবানি। হামারা দো ভাই হে, বড়া ভাইকা নাম হ্যায় জব্বার খাঁ, ছোটা ভাইকা নাম লেয়াকত খাঁ, বড়ি ব্যাহানকা নাম হ্যায় জুবাইদা, মে আমেনা খাঁ, ছোটা ব্যাহানকা নাম আয়সা খাঁ। মেরা দো বেটা অর এক বেটি ভি হে। বড়া বেটাকা নাম মোস্তফা খাঁ, ছোটা বেটাকা নাম মেরাজ খাঁ, বেটিকা নাম হ্যায় কামরুন্নেসা।

থানাকা নাম মোজাফফারপুর, জেলাকা নাম ছাপরা।’’ তবে জায়গার নাম শুনে পর্যালোচনা ও গুগল ম্যাপে সার্চ করে বুঝা যায় উনার বাড়ি ভারত বর্ষের বিহার রাজ্যের ভিতরে। এর বেশি কিছু বলতে পারছেন না। তবে এ নামগুলো সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করে বলাও সম্ভব হচ্ছে না। মৃত্যুর আগে আমেনার শেষ ইচ্ছা হলো ছোট বোন আয়সা, মেয়ে কামরুনেসা এবং স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়া।

তিনি আজও বিশ্বাস করেন আদরের ছোট বোন ও মেয়ে কামরুন্নেসাকে একদিন ফিরে পাবেন। তখন তারা সবাই মিলে বিহারে মোজফফারপুর পৌত্রিক ভিটায় যাবেন। সেখানে সবাই বসে গল্প করবেন। ৪৫ বছর ধরে আমেনা সেই অপেক্ষায় আছেন।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম