প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০১৯, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁর আত্রাইয়ে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন কাউন্টারে টিকেট না থাকলেও কালোবাজারীদের হাতে টিকেট

ওমর ফারুক,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ-যাত্রী ভোগান্তির চরম উদাহরণ আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন। হকার, ভিক্ষুক সিন্ডিকেট চক্রসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত স্টেশনটি। তবে সব ছাড়িয়ে চরম আকার ধারণ করেছে টিকেট অনিয়ম। টিকেট সিস্টেম পুরোটাই থাকে কালোবাজারীদের নিয়ন্ত্রণে। কাউন্টারে গিয়ে টিকেট পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ী আবু রায়হান অভিযোগ করেন,আত্রাই থেকে ঢাকা যাবার একমাত্র পথ বর্তমানে রেলপথ মানে ট্রেন যোগাযোগ।
আর এ স্টেশনে ঢাকাগামী একটি মাত্র ট্রেন দাঁড়ায় তা হলো নীলসাগর এক্সপ্রেস । ১০ দিন আগে ট্রেনের টিকেট না কাটলে সিট পাওয়া যায় না। ১দিন আগে বা ঔ দিনের টিকিট পাওয়া যায় না বা টিকিট পাওয়া গেলে ও সিট পাওয়া যায় না। তাহলে এ টিকেট যায় কোথায়? কিন্তু কালোবাজারীদের কাছে ঠিকই টিকেট পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কারণে চাইলেও টিকেট কিনতে পারি না। আবার অনেকে টিকেট ছাড়াই ট্রেনে চড়ে।
জানা যায়, ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু করে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন। সে হিসাবে স্টেশনটির বয়স ৯২ বছর। কিন্তু নতুন অনেক স্টেশনের চেয়েও কম উন্নত। অর্থনৈতিক টার্গেট পূরণ করছে, তবু এ স্টেশনের প্রতি সুদৃষ্টি নেই রেল কর্তৃপক্ষের। গত ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর ধারাবাহিক ভাবে পাঁচ দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের প্রাচীন এই রেল স্টেশনটি নানা সমস্যা সংকটে জর্জরিত। রয়েছে টিকেট কাউন্টার সংকট। প্লাটফর্ম ব্যবহারের অনপুযোগী কয়েক বছর আগেই।
কালোবাজারীদের দখলে স্টেশনের সব টিকেট।
বেশির ভাগ ট্রেন সময় মতো পৌঁছায় না। রয়েছে দালাল, হকার, সিন্ডিকেটচক্রসহ নানা অভিযোগ । এছাড়া হকার ও ভিক্ষুকদের জন্য চলাচল করতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। বিশ্রামাগারটি প্রায় সময় থাকে তালা দেয়া। অনুসন্ধান কেন্দ্রে পাওয়া যায়না তথ্য প্রদানকরীকে। আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের রিপন বলেন, এ স্টেশনে প্রচুর সমস্যা সম্মুখীন হতে হয় এর মধ্যে টিকিট নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই, কাউন্টারে তো টিকিট পাওয়া যায় ই না। কালোবাজারির কাছে থেকে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্টেশনের একজন কর্মচারি জানান, প্লাটফর্মসহ স্টেশনের কাছাকাছি কয়েকটি দোকনদার সিন্ডিকেট করে টিকেট ক্রয় করে। নিজেরদের লোক দিয়ে তারা উচ্চ মূল্যে তা বিক্রি করে। এটার সঙ্গে সরাসরি কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন। তিনি আরো জানান, ১০-১৫ জন কালোবাজারী এ কাজ করছে। রেলের নিয়মিত যাত্রী আত্রাইয়ের শেখ মোঃ জাহিদ জানান, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে রেলপথ প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশের রেল পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত করা প্রয়োজন। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আহসানগঞ্জ রেল স্টেশনে যাত্রী সেবার মান খুব খারাপ।
বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ খলিলুর রহমান জানান, লোকাল যাত্রীদের অনেকেই টিকেট ক্রয় করেন না। বিশেষ করে, আহসানগঞ্জ থেকে নাটোর, সান্তাহার পথে অনেক যাত্রী টিকেট ক্রয় না করে, বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। এর কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।কর্তৃপক্ষ স্বীকার না করলেও বলব, এই রেল স্টেশনে দালালদের দৌরাত্ম চরমে । কাউন্টারে গেলে টিকেট পাওয়া যায়না। বেশি টাকা দিলে মুহূর্তের মধ্যে টিকেট পাওয়া যায়।
আত্রাই থানার অফিসার্স ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মোসলেম উদ্দিন জানান, অপরাধ কর্মকাণ্ড আগের থেকে অনেক কমেছে। এখন বিশেষ করে বিনা টিকেটে যাতায়াত আর ট্রেনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য এ জাতীয় অপরাধ বেশি হয়। আর কালোবাজারি টিকিট বিক্রয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
টিকেট কালোবাজারীর অভিযোগ বিষয়ে আহসানগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে অর্ধেকের চেয়েও বেশি টিকেট অ্যাপসের মাধ্যমে বিক্রি হয়। আর যাদের প্রয়োজন তারা আগেই টিকেট ক্রয় করে নেন। শেষ সময়ে যারা আসেন তারা টিকেট পায় না। আবার বিশেষ সময়ে টিকেট সংকট দেখা দেয়।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম