
আবু সাঈদ খান (সন্দ্বীপ প্রতিনিধি) : বেশ কয়েক মাস ধরেই চট্টগ্রাম ০৩ সন্দ্বীপ আসনে বিএনপি থেকে কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট আবু তাহের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দপ্তরে নিযুক্ত তেনজিং, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন। সন্দ্বীপ আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে প্রাথমিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম ০৩ বা সন্দ্বীপ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে সন্দ্বীপ এর প্রার্থীদের সাথে দলীয় হাই কমান্ড ও তারেক রহমানের সাথে ভার্চুয়ালি মিটিং হয়। সন্দ্বীপে নীরবভাবে তদন্ত করা হয় অনেক কিছুই।
শোনা গেছে দলীয় হাইকমান্ড থেকে একটি তদন্ত টিম সন্দ্বীপ পাঠিয়ে প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তাও যাচাই করে নেওয়া হয়েছিল। তারপর দলীয় হাইকমান্ড অথবা স্থায়ী কমিটি তাদের আসল প্রার্থী নির্দিষ্ট করেছে। সবশেষে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন একই আসনের সাবেক তিন তিনবারের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশাকে।
কামাল পাশা ১৯৬২ সাল থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত। ইতিমধ্যেই তিনি ১৯৭৩-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৮৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় জনগণের সেবা করেছিলেন। তারপর ১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলেও সারা বাংলাদেশের বিএনপির ২৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ওনার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চট্রগ্রাম ০৩ সন্দ্বীপ আসনটি ধানের শীষ প্রার্থীকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সন্দ্বীপের রাজনীতিতে তৃণমূল থেকে উঠে আসা সন্দ্বীপের জনগণের অবিসংবাদিত জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব
মোস্তফা কামাল পাশা ১৯৬২ সাল থেকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র
ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িত থেকে ছাত্র নেতা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে রাজনৈতিক
হয়রানি মামলার শিকার হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে তিনি রাওয়ালপিন্ডি কলেজ থেকে
এইচ.এস.সি পাশ করেন। দীর্ঘ ৫ বছর পর স্বাধীনতা যুদ্ধকালীণ সময় তিনি বাড়ীতে অর্থাৎ সন্দ্বীপে চলে
আসেন এবং যুদ্ধকালীণ পুরো সময় দেশে অবস্থান করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সার্বিক ভাবে সহযোগীতা
করেন। অতঃপর তিনি ন্যাপের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব
পালন করেন।
সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহন করা মোস্তফা কামাল পাশা সন্দ্বীপের বিশিষ্ট দানবীর
ও সন্দ্বীপের শিক্ষা বিস্তারের অগ্রদূত মরহুম হাজী আব্দুল বাতেন সওদাগর সাহেবের ৩য় সন্তান। তিনি
১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত একটানা ১৬ বছর রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান
হিসাবে জনগণের খেদমত করেন। তিনি একবার সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান
হিসাবে প্রায় ২ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৯ সালে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত
হন। ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে সন্দ্বীপে ব্যাপক জান মালের ক্ষয়ক্ষতি দক্ষতার সহিত
মোকাবেলা করেন এবং তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি দেখার জন্য
সন্দ্বীপ সফরে আসিলে জনাব মোস্তফা কামাল পাশার কর্মদক্ষতা দেখে মুগ্ধ হন এবং তৎকালীণ চট্টগ্রামের
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জননেতা জনাব আবদুল্লাহ আল নোমান সাহেবের মাধ্যমে জনাব মোস্তফা কামাল পাশাকে
বি.এন.পি তে যোগদানের আহবান জানালে তিনি ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার
হাতে সুগন্ধা কার্যালয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে বি.এন.পিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করে বি.এন.পি’র
রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।
জনাব মোস্তফা কামাল পাশা বি.এন.পিতে যোগদান করার পর উনার সাংগঠণিক দক্ষতা এবং বিচক্ষণ
নেতৃত্বের কারণে সন্দ্বীপ উপজেলা বি.এন.পি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠে
এবং ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্দ্বীপ থেকে সর্বপ্রথম বি.এন.পি থেকে সংসদ সদস্য
নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ১২ই জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বি.এন.পি দলীয় প্রার্থী হিসাবে পূনরায়
মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকার পরও
নির্বাচনের দিন এ.বি হাই স্কুল ভোট কেন্দ্রে গন্ডোগোলের প্রেক্ষিতে আওয়ামীলীগের একজন কর্মী নিহত
হওয়ার পর প্রশাসনের সহযোগীতায় ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে বি.এন.পি প্রার্থীর
নিশ্চিত জয়কে পরাজয় দেখিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বিজয় ঘোষণা করা হয়; যাহা সন্দ্বীপবাসীর আজও
মনে আছে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর একটি হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলায় আসামী হয়ে
জনাব মোস্তফা কামাল পাশা গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। প্রায় এক মাসেরও অধিক সময় কারাভোগের
পর জামিনে মুক্ত হয়ে সন্দ্বীপে এসে পূনরায় রাজনীতি ও সাংগঠণিক কার্যক্রম শুরুকরেন। ১৯৯৯ সালে
আওয়ামীলীগ সরকারের আরেকটি রাজনৈতিক হয়রানি মূলক একটি হত্যা মামলা দায়ের করে এবং ঐ
মামলায় মোস্তফা কামাল পাশা সহ সন্দ্বীপ উপজেলা বি.এন.পি’র সকল পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদেরকে
আসামী করে সন্দ্বীপ থেকে বিতাড়িত করে দেয়। উক্ত মিথ্যা মামলায় সন্দ্বীপ উপজেলা বি.এন.পি’র
সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম মৌলভী এস.এম ইলিয়াছ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মরহুম সেকান্দর
হোসেন চেয়ারম্যান, মরহুম কামাল পাশা প্রকাশ কামরুল মেম্বার, সাবেক পৌর মেয়র মাস্টার ফখরুল
ইসলাম, গাছুয়ার বাবুল মেম্বার, যুবনেতা জামসেদুর রহমান, মাস্টার আবুল কাসেম, মোশারফ হোসেন
আকবর ভূ্ইঁয়া, আব্দুর রহিম, গাজি হানিফ, ইয়ার বাংলা আনোয়ার সহ প্রায় ৫৫জন নেতা কর্মী গ্রেফতার
হন। গ্রেফতারকৃত নেতাদের জামিনে মুক্ত করার জন্য জনাব মোস্তফা কামাল পাশা অক্লান্ত পরিশ্রম করে
গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দদেরকে জামিনে মুক্ত করেন। গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দ ১১ মাস ২৩ দিন কারা ভোগ
করার পর জেল থেকে বাহির করেন এবং ২০০০ সালে মোস্তফা কামাল পাশা সকল নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে
নিয়ে সন্দ্বীপ প্রবেশ করেন এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্য্যক্রম পুরোদমে শুরু করে দেন। ২০০১
সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোস্তফা কামাল পাশা বি.এন.পি’র মনোনীত প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের
ব্যবধানে ২য় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বি.এন.পি তথা ৪ দলীয় ঐক্যজোট সরকারের বিরুদ্ধে দেশীএবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং তথা
কথিত ১/১১ সরকার গঠিত হয়ে দেশে জরুরী অবস্থা জারী করে বি.এন.পি’র শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য সহ
সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদেরকে গণহারে গ্রেফতার শরু করে। মোস্তফা কামাল পাশার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত
হয়ে কোন অভিযোগ বা মামলা ছাড়া জরুরী আইনের ১৬এর ২ ধারা মোতাবেক তাকে গ্রেফতার করে
কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করে। প্রায় ১১ মাস কারাবরণ করে জেল থেকে জামিনে বাহির হয়ে তিনি সন্দ্বীপে
সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করেন এবং ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের
ব্যাবধানে তিনি ৩য় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঐ নির্বাচনে সেনাবাহীনি সমর্থিত সরকার
সারাদেশে বি.এন.পি প্রার্থী যেন নির্বাচিত হতে না পারে তার জন্য ব্যাপক ষড়যন্ত্র করে এবং এক কথায়
বলাযায় বি.এন.পি প্রার্থীদেরকে প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জোড়পূর্বক পরাজিত করা হয়। এমন একটি
কঠিণ নির্বাচনে মোস্তফা কামাল পাশাকে ঠেকানো যায়নি। ৯ম সংসদে বি.এন.পি’র মাত্র ২৯ জন এম.পি
নির্বাচিত হয়েছে। তারমধ্যে মোস্তফা কামাল পাশাও নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বি.এন.পি রাস্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। যার প্রেক্ষিতে মোস্তফা কামাল পাশা
সন্দ্বীপে ব্যাপক উন্নয়ন করার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং মোস্তফা কামাল পাশার হাত ধরে অবহেলিত সন্দ্বীপের
দৃশ্যমান উন্নয়ন শুরু হয়। ২০০১ সালে মোস্তফা কামাল পাশা যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তখন সন্দ্বীপ
টাউন নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে যায়। সরকারী অফিস আদালত সহ সরকারী স্থাপনা নদীগর্ভে বিলিন
হয়ে যায়। এ বিধ্বস্ত অবকাঠামো পূনঃ নির্মাণ করার জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন। এছাড়া সওতাল
খালের স্লুইচ ও মাইটভাঙ্গা খালের স্লুইচ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন জোয়ারের পানি এলাকায়
প্রবেশ করে মানুষের জান মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মোস্তফা কামাল পাশা সংসদ সদস্য থাকাকালীণ সময়ে
সন্দ্বীপে যে সকল দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছিল উহার উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের চিত্র নিম্মে প্রদান করা হইল।
০১। উপজেলা কমপ্লেক্সে সন্দ্বীপ টাউন স্থানান্তর
০২। উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় সরকারী অফিসের অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ,
উপজেলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস ভবণ নির্মাণ, সন্দ্বীপ থানা
ভবন নির্মাণ, সাবরেজিষ্ট্রার ভবন নির্মাণ, আবহাওয়া অফিস নির্মাণ, সেনের হাটে পোস্টঅফিসনির্মাণ, ৬ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ, সেমি পাকা অফিস ভবন নির্মাণ, লাইব্রেরী নির্মাণ,
কর্মচারীদের বসবাসের জন্য গৃহ নির্মাণ, উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।
০৩। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঃমূল ভূ-খন্ডের সহিত সন্দ্বীপের জনগণের নিরাপদে সমুদ্রে যাতায়াতের জন্য এম.ভি বারআউলিয়া
জাহাজ চালু, কুমিরা গুপ্তছড়া নৌরুটে এম.ভি খিজির জাহাজ চালু, গুপ্তছড়া-কুমিরা ঘাটে দুই
পার্শ্বে জেটি ও সড়ক নির্মাণ করা হয়।
০৪। সড়ক উন্নয়ন ঃআভ্যন্তরিন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য মোস্তফা কামাল পাশা সাহেবের সময়ে দেলোয়ার খাঁ
সড়ক উন্নয়ন, রহমতপুর তালতলী নর্থসাউথ সড়ক নির্মাণ, মুছাপুর আজিমশাহ সড়ক নির্মাণ,
রহমতপুর সিসি সেন্টার সড়ক নির্মাণ, হরিশপুর-বাউরিয়া সড়ক উন্নয়ন, মুছাপুর রমিজ উদ্দীন
সড়ক উন্নয়ন, মগধরা কমলা সড়ক উন্নয়ন, সন্তোষপুর সাতবাড়ী কারীবাড়ী সড়ক উন্নয়ন, মুছাপুর
আলম খুশি সড়ক উন্নয়ন, মাইটভাঙ্গা ডিবি সড়ক উন্নয়ন, গাছুয়া-আমান উল্যাহ সড়ক উন্নয়ন,
সন্তোষপুর-আকবর হাট সড়ক উন্নয়ন, মুছাপুর আজিজিয়া সড়ক উন্নয়ন, মুছাপুর মোল্লা পাড়া
সড়ক উন্নয়ন, আমানউল্যা সন্তোষপুর সড়ক, মগধরা কমলা এবং ধোপার গোপাট সড়ক উন্নয়ন,
চৌমুহনী সড়ক (এরশাদ সড়ক) উন্নয়ন, টনাশা সড়ক উন্নয়ন, চুনুমিয়া সড়ক উন্নয়ন, তেতুলিয়া
সড়ক উন্নয়ন, হাতেম মাঝি সড়ক উন্নয়ন, গাছুয়া বাউরিয়া বর্ডার সড়ক, সার্কুলার সড়ক
(সারিকাইত-আমান উল্যাহ-সন্তোষপুর) সড়ক উন্নয়ন, মুছাপুর-বাউরিয়া-গাছুয়া সড়ক (গাছুয়া
এ.কে একাডেমী হতে মুছাপুর তেমাথা হয়ে বদিউজ্জামান হাই স্কুল সংলগ্ন দেলোয়ার খাঁ পর্যন্ত),
মাইটভাঙ্গা কাজীর গোপাট সড়ক উন্নয়ন, মাওলানা নুরউল্যা সড়ক উন্নয়ন করা হয়।
০৫। কার্গিল ব্রীজ, নাজির ব্্রীজ ও হদ্দের গো ব্রীজ নির্মাণ এবং দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের
অধীনে বিপুল সংখ্যক কালভার্ট ও ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া মাইটভাঙ্গা খালের উপর এবং
সওতাল খালের উপর স্লুইচ নির্মাণ করা হয়।
০৬। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নঃসমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া সরকারী কার্গিল উচ্চবিদ্যালয় পূনঃ নির্মাণ, সরকারী মোমেনা
সেকান্দর বালিকা বিদ্যালয় পূনঃ নির্মাণ, সরকারী হাজী এ.বি কলেজ পূনঃ নির্মান, দক্ষিণ সন্দ্বীপ
কলেজে নতুন ভবণ নির্মাণ, উত্তর সন্দ্বীপ কলেজে নতুন ভবণ নির্মাণ, সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুল
ভবন পূনঃ নির্মাণ, গাছুয়া এ.কে একাডেমী নতুন ভবণ নির্মাণ, সন্তোষপুর হাই স্কুলে নতুন ভবন
নির্মাণ, মাইটভাঙ্গা হাইস্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ, কাজী আফাজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় ভবন
নির্মাণ, পূর্ব সন্দ্বীপ শাহ-আলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ, আজিমপুর হাইস্কুল ভবন নির্মাণ,
বশিরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, কাটগড় সিনিয়র মাদ্রাসা, কারামতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, সেকান্দর
সাফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আব্দুল মালেক ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নতুন ভবণ নির্মাণ, ৪০
বৎসরের উর্দ্ধে ১০টি হাই স্কুল ও মাদ্রাসা ভবণ নির্মাণ, এস.এস.সি ভোকেশনাল ভবণ নির্মাণ,
টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ, ২৮ সরকারী, বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন ভবণ নির্মাণ,
প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন শির্ষক প্রকল্প-২ এর অধিন ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবণ নির্মাণ করা
হয়।
০৭। ইউনিয়ন পরিষদ ভবণ নির্মাণঃইউনিয়নের জনগণের দৈনন্দিন সেবা প্রদানে সুবিধার্থে রহমতপুর, গাছুয়া, বাউরিয়া, আমান
উল্যাহ, কালাপানিয়া, উড়িরচর, মাইটভাঙ্গা ও সারিকাইত ইউনিয়নে আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ
ভবণ নির্মাণ করা হয়।
০৮। স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নঃহারামিয়া মালেক মুন্সীর বাজারে ২০ শর্য্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ গাছুয়া হাসপাতাল মেরামত ও
ভবণ উন্নয়ন, সারিকাইত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (শিবেরহাট) মেরামত ও উন্নয়ন, সন্তোষপুর,
বাউরিয়া ও মগধরা ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, মুমুর্ষ রোগীদের দ্রুত সমূদ্র
পারাপারের জন্য ১টি সি এম্বোলেন্স ও হাসপাতালে রোগী আনা নেওয়ার জন্য তৎকালীণ মাননীয়
প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১টি এম্বোলেন্স সন্দ্বীপের জন্য বরাদ্ধ দেন।
০৯। টেলিযোগাযোগ উন্নয়ন ঃসমুদ্র গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া টি.এন্ড.টি ভবন স্থানান্তর করে বাউরিয়া নাজির হাটে ডিজিটাল
টেলিফোন ভবন নতুন ভাবে পূনঃ নির্মাণ করা হয়।
১০। মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন -
মোস্তফা কামাল পাশা এম.পি থাকা কালীণ সময় ১৩১টি মসজিদ এবং ২৪টি মন্দির উন্নয়ন করা
হয় এছাড়া ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সন্দ্বীপে ৩টি মসজিদ ভবন নির্মাণ করা হয়।
১১। ঘূর্ণিঝড় ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মান ঃপ্রাকৃতিক দূর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে জনসাধারণকে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য “জাইকা”
কর্তৃক মুছাপুর, বাউরিয়া ও হারামিয়া ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।
১২। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নয়ন ঃ১৯৯১ সালে সন্দ্বীপ পাওয়ার হাউজ বিধ্বস্তহয়ে যাওয়ার পর জনাব মোস্তফা কামাল পাশার
আন্তরিক প্রচেস্টায় রহমতপুর তালতলী এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ ষ্টেশন নির্মাণ করা হয় এবং ঘূর্ণিঝড়
পরবর্তী পুর্নবাসন প্রকল্পের অধীন চীন থেকে ৫ মেঃ ওঃ ২টি জেনারেটর স্থাপন করে সারা সন্দ্বীপে
বৈদ্যুতিক লাইন সঞ্চালনের মাধ্যমে সন্দ্বীপের জনগণের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা সাহেব ছিলেন একজন প্রচার বিমুখ মানুষ
ওনি সব সময় মনে করতেন এবং বলতেন আমি সন্দ্বীপের লোক, সন্দ্বীপ বাসী আমাকে চিনে।
সন্দ্বীপ বাসী আমাকে চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত
করছেন। আমার “নাম ফলক” স্থাপন করা আমি কখনো প্রয়োজন মনে করিনা, আমার নাম ফলক
সন্দ্বীপের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আছে। আমি মৃত্যুর আগপর্যন্ত আমার প্রিয় সন্দ্বীপ তথা সন্দ্বীপ
বাসীর সেবা করে যেতে চাই। সন্দ্বীপ হবে একটি সন্ত্রাস মুক্ত আধুনিক সন্দ্বীপ। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে
আমি কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব। আমি সন্দ্বীপ বাসীর দোয়া চাই।
মুস্তফা কামাল পাশা স্বীয় ব্যক্তিত্বের মহিমায় মহিমান্বিত একজন ব্যক্তি। তিনি সন্দ্বীপের মানুষের
ভাগ্য উন্নয়ন ও অর্থ সামাজিক উন্নয়নে একজন সফল ব্যক্তি। শিক্ষা বিস্তারের তিনি তার
মরহুম পিতা হাজী আব্দুল বাতেন সওদাগর সাহেবের পথ অনুসরণ করে তিনি রহমতপুর উচ্চ
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সন্দ্বীপ বাসীর সামাজিক নিরাপত্তা লক্ষে“সন্ত্রাস মুক্ত সন্দ্বীপ
গড়াই” ছিল তার একমাত্র স্বপ্ন। উনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় সন্দ্বীপে কেউ চাঁদাবাজি,
মাদক ব্যবসা বা সন্ত্রাস করার সাহস পায়নি। ফলে তখন সন্দ্বীপের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিত ছিল
সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা ব্যক্তি স্বার্থেকমিশন বাণিজ্য বা কোন প্রকার
দূর্নীতিতে কখনো জড়িত ছিলেন না তিনি ছিলেন নির্লোভ এবং নিরহংকারী প্রকৃতির লোক। যার
কারণে সন্দ্বীপবাসীর কাছে উনার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। সন্দ্বীপের মানুষের ভালোভাষা এবং
জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে এবং রাজনৈতিকভাবে উনার জনপ্রিয়তাকে মোকাবেলা করতে না পেরে
হিংস্র রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উনাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা
করার জন্য বিগত ২৪/১১/২০১৩ তারিখ উরির চরের কুখ্যাত জলদুস্য জাসু এবং তার বাহিনীকে
ভাড়া করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রহমতপুরস্থতালতলী বাজার সংলগ্ন উনার নিজ বাড়িতে দিনে
দুপুরে আক্রমণ করা হয়। ভাড়াটিয়া জলদস্যুদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এমপি সাহেবের বড় ছেলে
ইকবাল পাশা জাবেদ জলদুস্যদের ছোড়া রাইফেলের বুলেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে
এবং তার সৌর চিৎকারে জলদস্যুরা মনে করেছিল এমপি সাহেব মারা গেছে।
গুলিবিদ্ধ জাবেদের
বেদনাদায়ক আর্তনাদ এবং এমপি সাহেব ও উনার স্ত্রী (জাবেদের আম্মা) ছেলের আর্তনাদ এবং
রক্তাক্ত দেহ দেখে উনাদের কান্না আর আহাজারিতে আকাশ বাতাস এবং বাড়ীর পরিবেশ ভারি
হয়ে উঠে। এমনি অবস্থায় সন্দ্বীপ থানায় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত গাড়ী নিয়ে আসে এবং
পুলিশের গাড়ীতে আহত জাবেদকে উঠিয়ে এনামনাহার মোড়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়
চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাবেদের শরীরে বুকে ও পিঠে বুলেটের
ক্ষত দেখে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। গুলিবিদ্ধ আহত
পুত্রের রক্তাক্ত নিথর দেহকে কোলে নিয়ে স্পীডবোটে করে এমপি সাহেব এবং উনার স্ত্রী সমুদ্র
পাড়ি দেওয়া শুরু করলেন। এ যেন এক করুন দৃশ্য পিতার কোলে আদরের সন্তানের নিথর দেহ,
যে কোন সময় ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে, ছেলের জীবন-মৃত্যুর এ সন্ধিক্ষণে এমপি
সাহেবের ইস্পাত পাথরের ন্যায় কঠিন মনোবল ও অদম্য সাহসী মনোভাব দেখা গিয়েছে। স্পীড
বোটের ড্রাইভার বার বার এমপি সাহেবের দিকে তাকাতে থাকে আর উনাদেরকে সান্তনা দিয়েছে।
সন্দ্বীপের রাজনৈতিক পূর্বাকাশে উত্তর গগনের কালো
মেঘের গর্জন আর সমুদ্রের উত্তাল প্রতিটি
ঢেউ যেন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে, হে আল্লাহ! আপনি এমপি সাহেবের আদরের নিষ্পাপ
ছেলেকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিন, আপনি তার জীবন কেড়ে নিয়েন না। আপনি তাকে রক্ষা করুণ।
আপনিতো উত্তম সাহায্যকারী এবং জীবন রক্ষাকারী। মহান আল্লাহর অসীম রহমতে জাবেদকে
নিয়ে স্পীডবোট কুমিরা খালে প্রবেশ করলে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে কান্নায় ফেটে
পড়ে এবং এমপি সাহেবের প্রতি সমবেদনা আর এ বর্বোরোচিত হামলার জন্য নিন্দা জানাতে
থাকে। গুলিবিদ্ধ জাবেদকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ জাবেদের অবস্থা সংকটাপন্নদেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।
তৎকালীণ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল ফছিউর রহমান এমপি
সাহেবকে ডেকে বললেন স্যার, আপনার ছেলের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। এখানে অপারেশন
করলে ঝুঁকি আছে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকায় বিভিন্নহাসপাতালে যোগাযোগ করেছি।
আপনি আপনার ছেলেকে দ্রুত ঢাকার গ্রীনরোডস্থ “গ্রীন লাইফ হাসপাতালে” নিয়ে যান। এ জটিল
অপারেশন একমাত্র সেখানে সম্ভব।
পরের দিন এমপি সাহেব সহ আমরা বিশেষ বিমানে করে
জাবেদকে ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমরা হাসপাতালে পৌছার আগেই
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুলিবিদ্ধ জাবেদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করে রেখেছে।
হাসপাতালে জাবেদ পৌঁছার সাথে সাথে সরাসরি অপারেশন থিয়েটরে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ
আট ঘণ্টা পরে অপারেশন কক্ষ থেকে একজন ডাক্তার বের হয়ে হাসি মুখে এমপি সাহেবকে
জড়িয়ে ধরে বললেন স্যার, আপনার ছেলের অপারেশন সফল হয়েছে। দোয়া করুন ইনশাআল্লাহ
আপনার ছেলে ভালো হয়ে যাবে। সন্দ্বীপের লক্ষ লক্ষ মানুষের দোয়া আর আল্লাহর অসীম রহমতে
জাবেদ সুস্থ হয়ে যায়। বি.এন.পির দলীয় একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে
বাড়ীতে বর্বোরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ছিলেন তৎকালীন সংসদের বিরোধীদলীয়
নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। উক্ত নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও
বিচারের দাবীতে চট্টগ্রাম জেলায় অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছিল। সন্দ্বীপের রাজনৈতিক
ইতিহাসে এ ন্যাক্কার জনক বর্বোরোচিত হামলা স্বরণীয় হয়ে থাকবে।
পরিশেষে সন্দ্বীপ বাসীর অহংকার, দুর্নীতিমুক্ত সৎ ও যোগ্য রাজনৈতিক কিংবদন্তিসাবেক সংসদ
সদস্য আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা সাহেবের শারীরিক সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম