
নিজস্ব প্রতিবেদক।। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত,হাড়কাঁপানো শীতে মানুষ যখন সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরছে,ঠিক তখনই এক উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। গত কয়েকদিন ধরে রাত জেগে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের হাতে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
এছাড়া চলতি সপ্তাহে কেশবপুরে রেকর্ড পরিমাণ শীত ও শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় সোম ও মঙ্গলবার (৬-৭ জানুয়ারি) টানা দুই দিন গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেরিয়েছেন ইউএনও। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তিনি নিজে ভ্যানচালক, ভিক্ষুক,ছিন্নমূল এবং অতিদরিদ্র মানুষের দুয়ারে গিয়ে কম্বল পৌঁছে দিয়েছেন। জানা গেছে,এই দুই দিনে তিনি মোট ১ হাজার ৫১৭ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।
একজন নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার এই প্রবণতা কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে,তিনি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তাই নন,বরং একজন উদার ও মানবিক হৃদয়ের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। একের পর এক জনহিতকর কাজের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে উপজেলাবাসীর গভীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
শীতবস্ত্র পেয়ে আবেগাপ্লুত এক বৃদ্ধা জানান,এই কনকনে শীতের রাইতে স্যার নিজে আইসে কম্বল দিয়া যাবে,তা ভাবতি পারিনি। আল্লাহ উনার মঙ্গল করুক।এলাকার সচেতন নাগরিক ও সুধী সমাজও ইউএনও’র এই মহতী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে,আর্তমানবতার সেবায় প্রশাসনের এমন সক্রিয় ভূমিকা অন্য কর্মকর্তাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই শীতে এমন মানবতাবাদী ইউএনও-ই দরকার" বর্তমানে কেশবপুরের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এই কথাটিই। নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে রেকসোনা খাতুন প্রমাণ করেছেন যে,সদিচ্ছা থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের অনেক কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব।
এবিডি.কম/জাহাঙ্গীর আলম রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম