প্রিন্ট এর তারিখ: July 16, 2026, 6:56 pm || প্রকাশের তারিখ: March 31, 2026, 8:43 pm
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। পাহাড়ের দুর্গম পথ পেরিয়ে সমতলের পিছিয়ে পড়া জনপদ-সবখানেই এক পরিচিত নাম মামুনী চাকমা। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে যেখানে শিক্ষার আলো পৌঁছানো দায়,সেখানে ঝরে পড়া শিশু আর অর্থের অভাবে থমকে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরম মমতায় আগলে নিচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নিজ অর্থায়নে পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এই মানবিক যোদ্ধা।
পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত ও মূলধারার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য মামুনী চাকমা হয়ে উঠেছেন আশার প্রতীক। তার কাজের পরিধি শুধু শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পাহাড়ের নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই, বুনন, হস্তশিল্প এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়া ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ এবং ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে বেকারদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও তার অবদান অনস্বীকার্য।
তবে এই মানবিক মহৎ পথচলায় এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র আর্থিক সংকট। নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে থমকে যেতে বসেছে অনেক সেবামূলক কার্যক্রম। বিশেষ করে নারীদের সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার কাজগুলো বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় তার এই মানবিক সেবাগুলো ছড়িয়ে দিতে এবং পাহাড়ের অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক-যুবতীদের ভাগ্য উন্নয়নে মামুনী চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মামুণী চাকমা জানান,আর্থিক অনটনের কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও আমার স্বপ্ন থেমে নেই। সরকারি সহযোগিতা পেলে পাহাড়ের এই পিছিয়ে পড়া জনপদকে একটি আলোকিত ও স্বাবলম্বী অঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব।"পাহাড়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আর স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের এই মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এখন সবার ইতিবাচক সাড়া ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পাহাড়ের এই সমাজসেবী।
এবিডি.কম/রাজু