
নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর।। লক্ষ্মীপুর জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ ৫ এপ্রিল পর্যন্ত গত তিন মাসে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২১ জন শিশু। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীন জানান:"শনাক্ত হওয়া ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষার পর ইতোমধ্যে চারজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে দুইজন বাড়ি ফিরে গেছেন।"
রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ রোধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাধারণ রোগীদের সুরক্ষায় এবং আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাম একটি উচ্চমাত্রার সংক্রামক রোগ উল্লেখ করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরূপ পাল অভিভাবকদের বিশেষ সর্তকতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, দ্রুত চিকিৎসা ও আইসোলেশনই এই সংক্রমণ ঠেকানোর প্রধান উপায়।
শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি ও কাশির সাথে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই কোনো দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। নিয়মিত সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুকে হামের প্রতিষেধক নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মাঠ পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ যেন জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এবিডি.কম/রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম