প্রিন্ট এর তারিখ: July 18, 2026, 9:06 pm || প্রকাশের তারিখ: April 18, 2026, 9:08 pm
কালুখালীতে অপকর্মের ‘মহোৎসব’ চালালেও ধরাছোঁয়ার বাইরে সচিব রবিউল: নেপথ্যে কোন শক্তি?
নাফিজ আহমেদ (রাজবাড়ী প্রতিনিধি)।। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে একের পর এক জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি থেকে শুরু করে ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ এবং পলাতক চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করার মতো গুরুতর অপরাধ করেও কোনো শাস্তির মুখোমুখি না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে-কে এই রবিউলের অদৃশ্য শক্তির উৎস?
অনুসন্ধানে জানা যায়,রতনদিয়া ইউনিয়নের জনৈক হাসি খাতুন তার পূর্ব স্বামীর সন্তান আশিক ব্যাপারীকে স্কুলে ভর্তির জন্য বর্তমান স্বামী কোরবান ব্যাপারীর নামে জন্মনিবন্ধন করার চেষ্টা করেন। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা তথ্য গোপনের বিষয়টি ধরে ফেললে তিনি ব্যর্থ হন। তবে সচিব রবিউল ইসলাম মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অন্ধকারে রেখে ভুয়া পিতার নামে আশিকের জন্মনিবন্ধন (নং: ২০১৮৮২৩৪৭৮৫১৩২০৯৮) সম্পন্ন করেন।
গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে রতনদিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র ধরা পড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন অভিযান চালিয়ে শতাধিক কার্ড ও ৫৬০ কেজি চাল উদ্ধার করেন। এ সময় দুই ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হলেও ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সচিব রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা সচিবের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০০টি কার্ড ক্রয় করেছিলেন।
সচিব রবিউলের অনিয়মের খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। ২০২৪ সালে মদাপুর ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই জনৈক হাবিবুর রহমানের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করেন তিনি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু পলাতক থাকলেও সচিব রবিউল ইসলাম তাকে ‘উপস্থিত’ দেখিয়ে একটি জরুরি সভার রেজুলেশন তৈরি করেন। ওই সভায় চেয়ারম্যানসহ ১২ জন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব গুরুতর অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, রবিউল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে দিনের পর দিন এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। তার এই ‘অদৃশ্য খুঁটির জোর’ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও সংশয় সৃষ্টি করেছে। বিচারের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে এত বড় জালিয়াতি করার পরেও যদি শাস্তি না হয়,তবে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তাকে বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এবিডি.কম/রাজু