
দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মাঝে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্যবৃদ্ধি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রোববার বিকেলে নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে, যা সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ‘১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে‘গতকাল পর্যন্ত যেখানে একটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে তা কার্যকর হচ্ছে ‘১ হাজার ৯৪০ টাকায়। বিইআরসি সচিবালয়ের সূত্রমতে, প্রতি কেজি এলপিজির দাম এবার বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। অথচ চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতেই একবার কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা দাম বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ, এপ্রিল মাস শেষ হওয়ার আগেই দুই দফায় এলপিজির দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
বিইআরসি সাধারণত সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের দামের (সৌদি সিপি) ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের ক্রমাগত অবমূল্যায়নের কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তবে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সময় সেই সুফল দেশীয় বাজারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে, কিন্তু বাড়ার খবর আসামাত্রই খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দাম আদায় শুরু করেন।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলপিজির এই আকাশচুম্বী দামের ফলে অনেক পরিবার এখন বিকল্প জ্বালানির কথা ভাবছে। ‘রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন,মাসের শুরুতে একবার দাম বাড়ল, এখন আবার ২০০ টাকার উপরে বাড়ল। আমাদের মত ভাড়াটিয়াদের জন্য সিলিন্ডার গ্যাস কেনাই এখন বিলাসিতা হয়ে যাচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পাল্লা ভারী হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ছোট ও মাঝারি মানের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ব্যবহার বেশি। সেখানেও দাম আনুপাতিক হারে বেড়েছে। এর ফলে খাবারের দামও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত এই দাম বেসরকারি খাতের সকল কোম্পানিকে মেনে চলতে হবে। কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা নির্ধারিত ১ হাজার ৯৪০ টাকার বেশি নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অনেক এলাকায় তদারকির অভাবে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০-১৫০ টাকা অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হতে দেখা যায়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের একটি বড় অংশ পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধার বাইরে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকার মানুষ সম্পূর্ণ এলপিজি নির্ভর। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে এলপিজির ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো কিংবা সরকারকে বড় ধরণের ভর্তুকির ব্যবস্থা করা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারাদেশে এই নতুন দাম কার্যকর হতে যাচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দর বহাল থাকবে। বিস্তারিত তথ্য বিইআরসির ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হচ্ছে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম