
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বাংলাদেশ পুলিশের জ্বালানি তেলের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপকে জননিরাপত্তার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-জ্বালানি না থাকলে পুলিশ সেবা দেবে কীভাবে?
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন,তেল না থাকলে পুলিশ দৌড়াবে কীভাবে? ব্যয় সাশ্রয়ের নামে বরাদ্দ কমানোর আগে এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল যে, কোথায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছিল।"তার মতে,পুলিশ কোনো সাধারণ অফিস নয়,বরং একটি জরুরি সেবা খাত। এই খাতে বরাদ্দ কমানোর আগে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,পুলিশের কার্যক্রমে জ্বালানি তেলের প্রধান ব্যবহার হয় টহল গাড়ি ও অপরাধ দমনের অভিযানে। জ্বালানি সংকোচন নীতি কার্যকর হলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো প্রকট হতে পারে: নিয়মিত টহল কমে গেলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। '৯৯৯' বা অন্যান্য মাধ্যমে আসা জরুরি কলে দ্রুত সাড়া দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। অপরাধী ধাওয়া করা বা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা হারাবে পুলিশ।
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন,বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যয় সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা তারা অস্বীকার করছেন না। তবে তাদের দাবি,এই সাশ্রয় নীতি এমন খাতে হওয়া উচিত নয় যা সরাসরি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সাথে জড়িত।"পুলিশ একটি জরুরি সেবা খাত। এখানে জ্বালানি সংকোচন মানে হলো সরাসরি জননিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা। বাস্তবতা বিবেচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।" মনিরুল হক ডাবলু,সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। ব্যয় সংকোচনের এই নীতি পুলিশের সামগ্রিক চেইন অব কমান্ড এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এমতাবস্থায়,জরুরি সেবা সচল রাখতে পুলিশের জ্বালানি বরাদ্দ পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এবিডি.কম/জাহাঙ্গীর আলম রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম