নবীনগরের ছলিমগঞ্জে ফেমাস হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় আঙুল হারালেন রোগী
মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জে অবস্থিত ফেমাস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ভুল চিকিৎসার কারণে এক রোগীর আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা। এছাড়াও একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে অবহেলা ও অপেশাদার চিকিৎসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে একজন রোগী দেখেন, আরেকজন প্রেসক্রিপশন লেখেন, আবার অন্য কেউ সার্জারি করেন। এভাবে সমন্বয়হীন চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে রোগীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
থোল্লাকান্দি এলাকার বাসিন্দা মোছাম্মদ মিনা (৫০) অভিযোগ করে জানান, অটোরিকশার ধাক্কায় তার হাতের একটি আঙুল সামান্য কেটে গেলে তিনি ফেমাস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে ডাঃ আতিকুল ইসলাম তার আঙুলে সেলাই করে অন্য রোগী দেখতে চলে যান। পরে আরেকজন চিকিৎসক ডাঃ মোঃ শওকত আলী তার প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। কিন্তু কয়েকদিন পর তার আঙুলের অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তার আঙুলটি কেটে ফেলতে হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া আরেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে ঢাকায় ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জানান, কানের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে অবস্থার উন্নতি না হয়ে উল্টো পচন ধরে। পরে ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার কান বাঁচাতে না পেরে অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলেন।সুন্নতে খতনা ও সিজার করার সময় ঘটেছে বড় ধরনের দূর্ঘটনা,
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে নিয়মিত দু’জন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ডাঃ আতিকুল ইসলাম নিজেকে শিশু ও আবাসিক সার্জন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিলেও এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের উপস্থিতি বুঝতে পেরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান, পরে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বিস্তারিত জানা যায়নি। অপরদিকে ডাঃ মোঃ শওকত আলী নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক দাবি করলেও তিনি কোনো ধরনের সার্জারির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। তার দাবি, তিনি শুধু রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেন, আর সার্জারির কাজ করেন ডাঃ আতিকুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ শওকত আলী বলেন,
ইচ্ছে করে তো আর কেও এমন হোক চাই না, তবে আমাদের যতটুকু করার তা আমরা চেষ্টা করেছি,প্রয়োজন হলে আমাদের কাছে আসলে আমরা আবার দেখবো।
তবে হাসপাতালের সাইনবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশন, জরায়ুর টিউমার, হার্নিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথরসহ বিভিন্ন জটিল অপারেশনের কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. জেনিফা হক যুথী সপ্তাহে একদিন (শুক্রবার) রোগী দেখেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই হাসপাতালটিতে অনিয়ম চলছে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও তা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। মাঝে মধ্যে দু’একটি দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করে না।
অন্যদিকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। তদন্ত করে যদি কোনো গাফিলতি পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া জানান, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম তদন্ত সাপেক্ষে হাসপাতালের অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধ করে রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম