গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য অশান্তির জেরে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন পরিবারের কর্তা ফোরকান মোল্লা। পরে আত্মগোপনে গিয়ে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা পুলিশ-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন কন্যাসন্তান ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় জনৈক মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসে। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে পুলিশের ধারণা। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোরকান।
নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।
পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেয়। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছে।”
এদিকে, একই পরিবারের পাঁচজনের নির্মম হত্যাকাণ্ডে কাপাসিয়া ও গোপালগঞ্জজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম