বাঘাবাড়ি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বাঘাবাড়ি ডিপোতে কর্মরত মিটারম্যান আব্দুল হাই লিটন সরকারের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে তেল চুরি, অনিয়ম, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হাই লিটন সরকারের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি ডিপো সংলগ্ন এলাকায়।
স্থানীয় হওয়ায় ডিপো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তার প্রভাব বিস্তার রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার আচরণ ও কর্মকাণ্ডে তারা অতিষ্ঠ। গেজার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সূত্র জানায়, তিনি মূলত মিটারম্যান পদে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময় তেল মাপার দায়িত্বে (গেজার) কাজ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এক পর্যায়ে তাকে গেজার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ডিপোর একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, বিভিন্ন ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে তেল চুরি ও তেল সংক্রান্ত নয়ছয়ের অভিযোগও রয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের মধ্যে শামীম হোসেন সাদ্দাম (পিতা- শামসুল), গ্রাম- খাগাড়বাড়িয়া, থানা- ফরিদপুর, জেলা- পাবনা অভিযোগ করেন, বাঘাবাড়ি ডিপোতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আব্দুল হাই লিটন সরকার তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। শামীম হোসেন সাদ্দাম আরও জানান, তাকে বলা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল চাকরি নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
একাধিক ডিপোতে লিখিত অভিযোগ জানা গেছে, আব্দুল হাই লিটন সরকার চাকরি জীবনে বাঘাবাড়ি, গদনাইল ও নাটোর ডিপোতে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই তিন ডিপোর ইনচার্জদের কাছেই তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ ভুক্তভোগী শামীম হোসেন সাদ্দামের দাবি, তার মতো আরও অন্তত ১০ জন চাকরিপ্রার্থী চাকরি পাওয়ার আশায় লিটন সরকারকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ ন্যূনতম এক কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত আব্দুল হাই লিটন সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম