আশুলিয়ায় রুমা নামের নারীর বিরুদ্ধে বিয়ে করে 'ধর্ষণ মামলা' ও ব্লাকমেইলের অভিযোগ: কারাগারে নিরীহ মোহাম্মদ আলী, ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী
মোস্তাবিন সিয়াম, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় রুমা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে বিয়ে করার পর উল্টো 'ধর্ষণ মামলা' দিয়ে স্বামী মোহাম্মদ আলীকে কারাগারে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, মামলা দায়েরের পর থেকে শশুরবাড়ির পরিবার ও এলাকার সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত রুমার এমন কর্মকাণ্ডকে 'ব্লাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবসা' আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় রুমা নামের ওই নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মোহাম্মদ আলীর। পরবর্তীতে তারা পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ৭-৮ মাস একসাথে সংসারও করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই রুমা তার স্বামী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে থানায় একটি 'ধর্ষণ মামলা' দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে মোহাম্মদ আলী জেলহাজতে রয়েছেন।
মোহাম্মদ আলীকে জেলে পাঠানোর পরও রুমার পুলিশি হয়রানি ও হুমকি থামেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর জামাতা (মেয়ের জামাই) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমার শশুর মোহাম্মদ আলীর সাথে ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে তারা দুজনে বিয়ে শাদিও করছে। ৭-৮ মাস সংসার করার পর মেয়েটা কী বুঝলো জানি না, হঠাৎ আমার শশুরের নামে ধর্ষণ মামলা দিয়ে ওনাকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা বিয়া করছে, প্রেম করছে, এটা তো ওগো পার্সোনাল বিষয়।
কিন্তু এখন পুলিশ এনে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমার বউ, শ্যালক-শ্যালিকা সবাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। আমরা সাধারণ গরিব মানুষ, উপায় না পেয়ে থানায় জিডিও (সাধারণ ডায়েরি) করেছি। কিন্তু জিডি করার পরও হুমকি থামছে না। আমরা এই অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।"
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, "কালকেও ওই মহিলা পুলিশ নিয়ে আসছিল। আমরা তো জানি ওরা স্বামী-স্ত্রী। কোর্টে গিয়ে তারা বিয়ে শাদিও করছে। এখন শুনতাছি ওনারে (মোহাম্মদ আলী) মামলা দিয়ে জেলে ঢুকাইছে। রুমা এখানে এসে হুমকি দিয়ে গেছে যে সবাইকে একবারে ধরিয়ে দেবে।"
একই এলাকার স্যানিটারি কারিগর আশিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রুমা নামের ওই মহিলা পুলিশ নিয়ে এসে আমাদেরও হুমকি-ধমকি দিয়ে গেছে। আমরা চাই এর একটা সুষ্ঠু বিচার হোক এবং মোহাম্মদ আলী ভাই যেন ন্যায়বিচার পান।"
এদিকে রুমার এমন কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো ব্লাকমেইলিং ব্যবসা বলে দাবি করেছেন
স্থানীয় মুদি দোকানদার মিন্টু। তিনি বলেন, "ওই মহিলার এইডাই হইলো ব্যবসা! এলাকার এমন কোনো মানুষ নাই যে ওর এই খারাপ চরিত্র সম্বন্ধে জানে না। এর আগেও সে এইরকম কাজ করছে, যার বহু প্রমাণ আছে। আমরা এই এলাকায় ২০-২২ বছর ধরে থাকি। একটা ভালো মানুষকে এভাবে ফাঁসায়ে জেলে দিল! আর থানায় জিডি করলেই যদি পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? ও তো একটা চরম বেয়াদব মহিলা।"
এই বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে এবং বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত রুমাকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই প্রতিনিধিকে বলেন, "আপনারা তথ্য পেলে নিউজ করবেন, কিন্তু আমার নামে কোনো ভিউ বা মিথ্যা নিউজ করবেন না।"
আইনসম্মত বিয়ের পর দীর্ঘদিন সংসার করে হঠাৎ স্বামীকে 'ধর্ষণ মামলা' দিয়ে জেলে পাঠানো এবং পুরো পরিবারসহ এলাকাবাসীকে পুলিশি হয়রানির ঘটনায় আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারাবন্দী মোহাম্মদ আলীর মুক্তি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ব্লাকমেইলিং চক্রের মূল উৎপাটন করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম