ছয় দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও একাডেমিক শাটডাউন, স্থবির স্বাস্থ্যসেবা
নাজমুল ইসলাম নাহিদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেতনবৈষম্য দূর করাসহ ছয় দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করায় প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। রবিবার (৭ জুন) থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ চিকিৎসক একরাম আহসান জুয়েলের কাছে শিক্ষার্থীরা তাদের ছয় দফা দাবির স্মারকলিপি প্রদান করছেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিই)-এর সভাপতি মো. আবু ইউসুফ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আদনান কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রধান ছয়টি দাবির মধ্যে রয়েছে:
=এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন-সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা বাতিল করা।
=বিএমইউ ও বিসিপিএস ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা।
=ইন্টার্নদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করা।
=চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে বিশেষ আইন পাস করা।
=বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৪ বছর করা।
=শ্রম আইন অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট জাতীয় বেতনকাঠামো তৈরি করা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এই আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা নিউমোনিয়া আক্রান্ত এক শিশুর বাবা রিয়াজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নার্সরা ওষুধ দিলেও জরুরি প্রয়োজনে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালটি এখন এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে’।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক নাসিরুজ্জামান জানান, মেডিকেল অফিসার পর্যায়ে ডাক্তারের সংখ্যা কম থাকায় ইন্টার্নদের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ চিকিৎসক একরাম আহসান জুয়েল জানান, কলেজের অধ্যক্ষ বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তিনি রাতে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম