
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দুই অতিরিক্ত উপপরিচালকের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি এবং পরবর্তীতে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে এক কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএই-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক (প্রশাসন-২) মাসুম বিল্লাহ সুমনের পূর্ববর্তী সরকারি বিভিন্ন প্রোগ্রামের ছবি সংগ্রহ করে তাকে 'ফ্যাসিস্টের দোসর' আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খান। মাসুম বিল্লাহ সুমন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি এবং এ্যাব পাবনা জেলা চ্যাপ্টারের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
গত সোমবার সন্ধ্যায় কেআইবিতে বনি আমিন খানকে পেয়ে মাসুম বিল্লাহ সুমন এ বিষয়ে জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বনি আমিন উত্তেজিত হয়ে মাসুম বিল্লাহকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং এতে বনি আমিন চোখে আঘাত পান। এই ঘটনার জের ধরে বনি আমিন খান বহিরাগত সন্ত্রাসী ডেকে এনে মাসুম বিল্লাহকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সন্ত্রাসীরা সরে পড়ে।
ঘটনার পর কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব-এর সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লবসহ সিনিয়র কৃষিবিদ নেতারা উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ধাক্কাধাক্কির সময় চোখে আঘাত পাওয়ার ঘটনায় মাসুম বিল্লাহ সুমন দুঃখ প্রকাশ করে বনি আমিন খানের কাছে ক্ষমা চান এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
এ বিষয়ে এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব বলেন, "বনি আমিন খান ও মাসুম বিল্লাহ সুমনের মধ্যে যা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। সিনিয়র কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দ বসে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দেন। আশা করি ভবিষ্যতে এ নিয়ে আর কোনো বাড়াবাড়ি হবে না।" তবে তুচ্ছ ঘটনায় কেআইবিতে বহিরাগত সন্ত্রাসী ডেকে এনে একজন কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং একজন চিহ্নিত জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদের চরিত্র হননের অপচেষ্টার অভিযোগে সাধারণ জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদ সমাজ ও শেকৃবি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতিরিক্ত উপপরিচালক বনি আমিন খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিগত ৫ আগস্টের পূর্বে তার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকীর লোগো সংবলিত ছবি ছিল। দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি তাকে অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) পদ থেকে অতিরিক্ত উপপরিচালক (ফুল ও ফল) পদে বদলি করা হলেও চার মাসেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে তিনি আগের পদটিই আঁকড়ে ধরে আছেন। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে ডিএই সদর দপ্তর থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদরা।এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিজি আব্দুর রহিমের সাথে কথা বললে, তিনি বলেন, যেহেতু তাকে বদলি করা হয়েছে,তার সেখানে জয়েন করা উচিত ছিল।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম