প্রিন্ট এর তারিখ: September 5, 2026, 12:21 am || প্রকাশের তারিখ: June 9, 2026, 6:23 pm
তীব্র দাবদাহের পর কিশোরগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টি
নাজমুল ইসলাম নাহিদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কয়েকদিনের টানা তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তির সুবাতাস হয়ে ঝরেছে বৃষ্টি। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। দীর্ঘ অসহনীয় গরমের পর এই বৃষ্টিতে জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিশোরগঞ্জে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নাকাল ছিল সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। দিনের বেলা প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ডাবের পানি, তালশাঁসসহ নানা শরবত ও কোমল পানীয়ের ওপর নির্ভর করছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। এরপর ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টির ঝাপটায় ধুয়ে যায় চারপাশের ধুলাবালি, কমতে শুরু করে তাপমাত্রা।
শহরের নগুয়া এলাকার বাসিন্দা ফারজুল মিয়া বলেন, “গত কয়েকদিনের গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ঘরের বাইরে গেলেই শরীর ঘেমে একাকার অবস্থা হতো। ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আজ বৃষ্টি হওয়ায় মনে প্রশান্তি লাগছে।”
রিকশাচালক সুরুজ মিয়া জানান, “প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির কারণে আজ যাত্রী কম, আয়ও কিছুটা কম হবে। তবুও গরম থেকে মুক্তি পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “দিনের দাবদাহ আর রাতের অস্বস্তিতে ঠিকমতো ঘুমাতেই পারছিলাম না, পড়াশোনাতেও মন বসছিল না। আজকের বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আশা করছি তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।”
এদিকে, বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা গেছে। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেছেন। তবে বৃষ্টির কারণে শহরের বত্রিশ ও নূরানী সড়কসহ কয়েকটি নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো কিশোরগঞ্জেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।