
অনুসন্ধানে জানা যায়,আদায়কৃত ঋণের অধিকাংশই প্রায় ১৫ থেকে ১৭ বছর ধরে বকেয়া ছিল। দীর্ঘদিনের এসব পাওনা আদায়ে বর্তমান সময়ে স্বল্প জনবল নিয়েও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নোটিশ প্রদান, গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ঋণগ্রহীতাদের শনাক্তকরণ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত তাগিদ প্রদানের ফলে প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকা ঋণগ্রহীতারাও এখন ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি আমেনা বেগম গং তাদের সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ পরিশোধ করেছেন। এ ছাড়া নীহার কবিরাজ, চৈতন্য কবিরাজ, অভিজিৎ কুণ্ডু ও মো. রুহুল শেখসহ বেশ কয়েকজন ঋণগ্রহীতা তাদের ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, দীর্ঘকাল কোনো তাগিদ না আসায় তারা ভেবেছিলেন ঋণগুলো সম্ভবত মওকুফ হয়ে গেছে। তবে মৎস্য অফিসের বর্তমান তৎপরতায় তারা ঋণ পরিশোধের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছেন। তারা জানান, ঋণের টাকা পরিশোধ করে তারা মানসিক শান্তি পাচ্ছেন এবং নিজেদের উদ্যোগেই এটি আগে করা উচিত ছিল বলে স্বীকার করেন।
সরকারি পাওনা আদায় কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও তদারকি করা হচ্ছে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের অনাদায়ী সব সরকারি ঋণ দ্রুত আদায় সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যচাষীরা মৎস্য অফিসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “দীর্ঘদিন এমন বলিষ্ঠ ভূমিকা ও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রবণতা কমে আসবে।”
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের সেবা প্রদান নিশ্চিত করা এবং মাছ ও চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধিই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও বকেয়া ঋণ আদায়ে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এবিডি.কম/রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম