অবসান ঘটল ‘ঢলন’ শোষণের: রাজশাহীতে এখন থেকে কেজিতেই কেনাবেচা হবে আম!
আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী অঞ্চলের আম চাষিদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও লোকসানের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে বন্ধ হতে চলেছে আম ব্যবসার চিরচেনা, কিন্তু বিতর্কিত ‘ঢলন’ প্রথা। এখন থেকে আর মণের নামে অতিরিক্ত আম নয়, বরং নিখাদ কেজি দরেই কেনাবেচা হবে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের প্রধান আকর্ষণ ‘আম’। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী এই ‘ঢলন’ প্রথা এবং কেন এই সিদ্ধান্ত?
এতদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে আম কেনাবেচার ক্ষেত্রে ‘ঢলন’ বা বাড়তি ওজনের একটি অলিখিত নিয়ম চালু ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ হওয়ার কথা থাকলেও, আড়তদাররা চাষিদের কাছ থেকে মণপ্রতি ৪৪ থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম আদায় করতেন।
চাষিদের লোকসান: বাড়তি এই ৪ থেকে ১৪ কেজি আমের জন্য চাষিরা কোনো টাকা পেতেন না।
আর্থিক ক্ষতি: এর ফলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আম উৎপাদনকারী সাধারণ চাষিরা প্রতি মৌসুমেই চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতেন।
আম চাষিদের এই দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ও ক্ষোভের কথা বিবেচনা করেই প্রশাসন এই প্রথা কঠোরহস্তে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন নিয়মে যা থাকছে:
সভায় আমচাষি ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে: শতভাগ কেজি দরে বেচাকেনা: কোনো প্রকার ‘ঢলন’ বা অতিরিক্ত ওজন নেওয়া যাবে না। ১ কেজি মানে নিখাদ ১ কেজি হিসাব করেই মূল্য পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট কমিশন: আড়তদারদের ব্যবসার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতি কেজি আম বিক্রির বিপরীতে ৩ টাকা কমিশন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আমচাষিরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও ন্যায্য মূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।"
ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় এই সভায় রাজশাহী বিভাগের চার প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ)-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আমচাষি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন:
মোহাম্মদ শাহজাহান, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (রাজশাহী রেঞ্জ)
মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, আরএমপি পুলিশ কমিশনার
কাজী শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (রাজশাহী)
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (নওগাঁ)
আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, জেলা প্রশাসক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
শাহানা আখতার জাহান, উপপরিচালক (কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, রাজশাহী)
ড. মো. শফিকুল ইসলাম, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ফল গবেষণা কেন্দ্র, রাজশাহী)
মাহমুদুল আলম স্বজল, এজিএম (সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস)
প্রত্যাশা
প্রশাসনের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ আমচাষিরা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে আম সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমবে এবং চাষিরা তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য পেয়ে নতুন উদ্যমে আম চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম