প্রিন্ট এর তারিখ: জুন ১২, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ || প্রকাশের তারিখ: জুন ১২, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথ টহল, নজরদারি এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত ৮ থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এবং বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত পরিস্থিতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, জাল মুদ্রা ও স্বর্ণসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া মানবপাচার, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্তকে ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
বৈঠকে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত এলাকায় আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
উভয় বাহিনী সীমান্তবর্তী অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। গত ১১ জুন যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আগামী নভেম্বর (২০২৬) মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।