নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে নির্দোষ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগে ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই জাহেদুল ইসলামের অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২ টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাবুর হাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে একাধিক বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে এসে পুলিশের ঘুষ গ্রহণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে পুলিশ কথিত “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনতাই” সংক্রান্ত জিআর-০৩/২৫ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফকে গভীর রাতে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে আসামি করা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সাবেক ইউ পি সদস্য মোঃ হাফিজুল ইসলাম হাপু দাবি করেন, ওই মামলায় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি চার্জশিটে এমন ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফ অভিযোগ করে বলেন, আমাকে ওই মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার পর আমার পরিবারের কাছ থেকে এসআই জাহেদুল ইসলামের মাধ্যমে তৎকালীন ওসি মুনিরুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেন। পরদিন আমার পিতা আব্দুস ছালাম আমাকে দেখতে থানায় গেলে একই মামলায় তাকে ওসির কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে আমাকে আবারও থানায় নিয়ে গিয়ে “মুক্তিপণ দাবি” সংক্রান্ত আরেকটি কথিত মামলায় আসামি করা হয় এবং জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ সময় আমার পিতা আব্দুস ছালাম আমাকে দেখতে থানায় গেলে তৎকালীন ওসি আল হেলাল মাহমুদ এসআই জাহেদুল ইসলামের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা নেন। এছাড়া রিমান্ড আবেদন ও রিমান্ডে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে আমার বোন সাফিয়ার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নেয় এসআই জাহেদুল ইসলাম। আমি জেল হাজতে থাকা অবস্থায় ভূরুঙ্গামারী থানায় দায়েরকৃত জি আর ১৭/২৫ ও জি আর ৮০/২৫ মামলায় বেআইনী ভাবে পিডব্লিউ আবেদনের মাধ্যমে আরো ২ টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফ দাবি করেন, ওই মামলার তথাকথিত ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন, আলা উদ্দীন এবং মামলার বাদী আব্দুল মান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি দেওয়ার সময় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আরিফের বিরুদ্ধে তারা কোনো অভিযোগ বা মামলা করেননি বলে ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, মামলায় আরিফের নাম এসআই জাহেদুল ইসলাম নিজেই অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উল্লেখ করেছেন।
মোঃ আলম হোসেন অভিযোগ তুলে বলেন, একই মামলার চার্জশিটে প্রবাসে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মোঃ শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী মোঃ শাহ আলম এর বড় ভাই মসজিদের ইমাম মোঃ আলম মিয়াকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী সুমন অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোন অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই রাতে সুমনকে গ্রেপ্তার করে এসআই জাহেদুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এবং টাকা না দিলে তাকে বাবুর হাটের আসামি ছিনতাই মামলায় আসামি করে জেল হাজতে পাঠাবে। পরে সুমনের মানি ব্যাগে থাকা ৪ হাজার টাকা এসআই জাহেদুল ইসলাম বের করে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এবং বাকি টাকার জন্য পরের দিন এসআই জাহেদুল ইসলাম সুমনের বাড়িতে সোর্স পাঠিয়ে দেয়। একই ভাবে আরাজী পাইকডাঙ্গা এলাকার ফজলুল হক ঘটনার দিন বগুড়ায় শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করলেও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় রিমান্ডে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তাদের অভিযোগ, বাবুর হাট এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম হাবুর ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম রতনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, মোঃ রাসেল মিয়া, মোঃ নুর নবী বুলু, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ শাহ আলম, মোঃ সুমন, মোঃ আয়নাল হক, মোঃ ছানোয়ার হোসেন, ঢাকায় বসবাসরত মাইক্রোচালক মোঃ মামুন, মাছ ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, স্বপন, জাকির হোসেন ও আজিবরসহ একাধিক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম, স্বপন মিয়া, আয়নাল হক, সুমন মিয়া, মামুন মিয়া সহ আরো অনেকেই অভিযোগ তুলে বলেন এসআই জাহেদুল ইসলাম বিভিন্ন সোর্স দিয়ে তাদের কাছে ঘুষ দাবি করে। তারা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় তাদের নাম কথিত মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে এসআই জাহেদুল ইসলাম।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে এসআই জাহেদুল ইসলামের প্রত্যাহার, অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এবং সেই সাথে নির্দোষ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো পরিকল্পনাকারী ইউপি মোঃ আসাদুল হক, আব্দুর রশিদসহ জরিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কথিত মিথ্যা মামলাগুলো পুনঃতদন্তেরও আহ্বান জানান।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম