আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: June 22, 2026, 10:18 pm || প্রকাশের তারিখ: June 22, 2026, 7:31 pm
মামলা থেকে রক্ষা পেতে বিয়ে, পরে ২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও।স্বামীর বিচার দাবি ভুক্তভোগীর
মামলা থেকে রক্ষা পেতে বিয়ে, পরে ২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও।স্বামীর বিচার দাবি ভুক্তভোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক আশুলিয়া

আশুলিয়ায় ধর্ষণ মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে এক নারীকে বিয়ে করার পর তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে থাকলেও তিনি ভুক্তভোগীকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

 

রোববার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরে ভুক্তভোগী রুমা আক্তার (ছদ্মনাম) বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন মোহাম্মদ আলী। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ভাড়া বাসায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় রুমা আক্তার আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলার এফআইআরে মোহাম্মদ আলীকে আসামি করা হয়।

 

ভুক্তভোগীর দাবি, মামলা দায়েরের পর সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে মামলা থেকে রক্ষা পেতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে একটি হলফনামা সম্পাদন করেন। ওই হলফনামায় রুমা আক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক, ঘটনার বিবরণ এবং পরবর্তীতে তাকে বিয়ে করার অঙ্গীকার উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

প্রতিবেদকের হাতে থাকা নোটারিকৃত হলফনামার কপিতে দেখা যায়, সেখানে রুমা আক্তারকে বিয়ে করার বিষয়ে অঙ্গীকার এবং ৪ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

 

রুমা আক্তার জানান, তার পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ও ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পর মোহাম্মদ আলী তাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর মাত্র দুই মাস সংসার করার পর তার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ২ লাখ টাকা নেন। পরে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

তার দাবি, প্রায় তিন মাস পলাতক থাকার পর পুলিশ পূর্বের মামলায় মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। কিন্তু আদালতে নেওয়ার পর তিনি এখন বিয়ে ও পূর্বের ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয় অস্বীকার করছেন।

 

ভুক্তভোগী জানান, তার কাছে অভিযুক্তের স্বাক্ষরযুক্ত হলফনামা, সাক্ষীদের স্বাক্ষর, ব্যাংক লেনদেনের নথি, কল রেকর্ড এবং ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

ভুক্তভোগী রুমা আক্তার বলেন, “সে আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। বিয়ের নামে প্রতারণা করেছে, টাকা নিয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

 

মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম