কক্সবাজারে ট্রাফিক পুলিশের ‘নাটক’: স্টক সাইলেন্সারকেও আফটার-মার্কেট এক্সজস্ট দাবি করে হয়রানির অভিযোগ
কক্সবাজার প্রতিনিধি | অনলাইন ডেস্ক
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের অপেশাদার আচরণ ও অযথা হয়রানির শিকার হয়েছেন একদল তরুণ বাইকার। চলন্ত মোটরবাইকের পেছন থেকে দৌড়ে এসে চাবি কেড়ে নেওয়া এবং বাইকের কোম্পানির দেওয়া ‘স্টক সাইলেন্সার’কে অবৈধ ‘আফটার-মার্কেট এক্সজস্ট’ দাবি করে মামলা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাইকার কমিউনিটিসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভোক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১ মে কক্সবাজারের একটি সড়কে এক বাইকারকে সিগন্যাল দিতে গিয়ে এক ট্রাফিক কর্মকর্তা পেছন থেকে দৌড়ে এসে যেভাবে চলন্ত মোটরবাইকটি টেনে ধরেন এবং বন্ধ করার চেষ্টা করেন, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বাইকারদের দাবি, এটি কোনো যানবাহন বা মোটরবাইককে সিগন্যাল দেওয়ার আইনসম্মত বা নিরাপদ নিয়ম হতে পারে না। এতে যেকোনো মুহূর্তে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতেন।
’
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর ঘটনাস্থলে যুক্ত হন একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট। তিনি ইয়ামাহা ‘R15’ মডেলের স্পোর্টস বাইকটি দেখেই শুরু করেন নতুন বিতর্ক। সার্জেন্টের দাবি, বাইকটিতে অবৈধ এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী আফটার-মার্কেট এক্সজস্ট (সাইলেন্সার) লাগানো হয়েছে। অথচ খালি চোখেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, বাইকটিতে কোম্পানির দেওয়া জেনুইন স্টক সাইলেন্সারই যুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে ওই সার্জেন্ট R15 স্পোর্টস বাইকের ইঞ্জিনের আওয়াজকে সাধারণ মানের অন্যান্য কমিউটার বাইকের শব্দের সাথে তুলনা করার চেষ্টা করেন। বাইকারদের মতে, মোটরবাইক সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে, তারা জানেন যে স্পোর্টস বাইকের সাউন্ড কিছুটা গম্ভীর ও ভিন্ন প্রকৃতির হয়।
"আপনারা একসাথে আসছেন, তাই সব বাইকই অবৈধ!"
সার্জেন্ট যখন কোনোভাবেই বিষয়টি মানতে চাচ্ছিলেন না, তখন ভুক্তভোগী বাইকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, রাস্তায় চলমান অন্য যেকোনো R15 বাইকের শব্দের সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হোক। কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই সময়ই আরও দুটি R15 বাইক সেখানে এসে পৌঁছায় (যারা মূলত একসাথে কক্সবাজারে ট্যুর করছিলেন)।
নতুন বাইকগুলো আসার পর ট্রাফিক সার্জেন্ট অদ্ভুত এক যুক্তি খাড়া করেন। তিনি দাবি করেন, এই দুটি বাইকেও অবৈধ এক্সজস্ট লাগানো আছে। বাইকাররা যখন প্রশ্ন করেন, "ভাই, আমাদের সবার বাইকেই এক্সজস্ট লাগানো?" তখন সার্জেন্ট মহোদয় উত্তর দেন— "যেহেতু আপনারা সবাই একসাথে এসেছেন, তাই আপনাদের সবার বাইকেই অবৈধ এক্সজস্ট লাগানো আছে!"
সার্জেন্টের এমন অদ্ভুত ও মনগড়া যুক্তিতে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত সবাই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— "জোর যার মুল্লুক তার" নীতিতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ ক্ষমতার জোরে তাঁদের হয়রানি করা হয়েছে।
মোটরবাইক বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মডিফাইড বা আফটার-মার্কেট এক্সজস্ট ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় এবং পুলিশ অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু যারা রাস্তায় তল্লাশির দায়িত্বে আছেন, তারা যদি কোম্পানির জেনুইন 'স্টক পার্টস' আর 'আফটার-মার্কেট পার্টস'-এর পার্থক্যই না বোঝেন এবং নিজের মনগড়া আইন চাপিয়ে দেন, তবে সাধারণ চালকরা কোথায় যাবেন?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টদের অবশ্যই বিভিন্ন যানবাহন ও আধুনিক মেকানিজম সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা জরুরি। এটি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং-এর অংশ হওয়া উচিত। তা না হলে সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের এভাবে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হবে, যা দেশের পর্যটন খাতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সড়কে ট্রাফিক পুলিশের অপেশাদার আচরণ বন্ধে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম