প্রিন্ট এর তারিখ: June 30, 2026, 2:58 pm || প্রকাশের তারিখ: June 30, 2026, 12:23 pm
শেখ মাহতাব হোসেন,ডুমুরিয়া (খুলনা)।। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত চিকিৎসক সুকান্তর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি নিয়মিত না খোলায় এলাকার সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা দিনের পর দিন মৌলিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের চারপাশ ও সামনের অংশ ঝোপঝাড় ও বন-জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সচল সরকারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে কোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দাপ্তরিক কাজ না হওয়ায় পুরো ভবনজুড়ে অবহেলার স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
ক্লিনিকে ওষুধ নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও টিপনা পশ্চিমপাড়া মসজিদের ইমাম শহিদুল সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছি না। সরকারিভাবে যেসব ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, তা আমাদের না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। এছাড়া চিকিৎসকের আচরণও খুবই খারাপ। আমরা এর সঠিক প্রতিকার চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ এরশাদ সরদার বলেন, "সুকান্ত ডাক্তার ক্লিনিক ঠিকমতো খোলেন না। ক্লিনিকের চারপাশ বন-জঙ্গলে ভরে গেছে। দেখে মনে হয় দীর্ঘদিন এখানে কোনো অফিস হয় না। সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকতে পারে না।"চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়া ফারুক সরদার নামের আরেক ভুক্তভোগী রোগী সরাসরি চিকিৎসকের ফাঁকিবাজির চিত্র তুলে ধরে বলেন, "উনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। ক্লিনিকে রোগী বসিয়ে রেখে উনি পাশের চায়ের দোকানে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করেন। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাই। এমন চিকিৎসকের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকান্তর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে নিজের গাফিলতি আড়াল করতে অজুহাত দেখিয়ে বলেন, "ক্লিনিক বন্ধ রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। ডুমুরিয়ায় সরকারি বিভিন্ন মিটিং ও জরুরি দাপ্তরিক কাজের চাপ থাকার কারণে মাঝে মাঝে ক্লিনিকে বসতে একটু দেরি হয়।" তবে স্থানীয়রা তাঁর এই বক্তব্যকে স্রেফ 'তালবাহানা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কাজল মল্লিক বলেন, "টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। সরকারি চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"বিষয়টি জেলা পর্যায় পর্যন্ত গড়ালে খুলনা সিভিল সার্জন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, "জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনায় কোনো প্রকার শিথিলতা বরদাশত করা হবে না।
টিপনা কমিউনিটি ক্লিনিকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"এদিকে এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই ক্লিনিকের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ও দায়িত্ববান চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে এলাকার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।