
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)।। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষিতে যুক্ত হয়েছে এক নতুন দিগন্ত। অফ-সিজন বা গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে উপজেলার কৃষকরা এখন বেশ লাভবান হচ্ছেন। অল্প সময়ে ফসল তোলা, কম উৎপাদন খরচ এবং উচ্চ ফলনশীল সংকর (হাইব্রিড) জাতের কারণে স্থানীয় চাষিদের মধ্যে এই তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও বিশেষ প্রকল্পের অর্থায়নে এবার মাঠ পর্যায়ে এই সম্ভাবনাময় ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৩১৫ একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, লতিকচু ও মিষ্টিকুমড়া অন্যতম। তবে এবারের মূল আকর্ষণ ছিল কৃষি অফিসের বিশেষ সহযোগিতায় এবং ‘এ অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে চাষ করা গ্রীষ্মকালীন তরমুজ। ইউনাইটেড সীডসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন।
সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা, খর্নিয়া, সাহস ও শরাফপুর ইউনিয়নের চাদগড়, সুন্দর মহল ও কালিকাপুর গ্রাম ঘুরে তরমুজ চাষের দারুণ চিত্র দেখা গেছে। কালিকাপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল তার ৩৩ শতাংশ জমিতে আধুনিক 'মালচিং পদ্ধতি' ব্যবহার করে 'স্মার্ট বয়' ও 'মীম আস্থা' নামক হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। চারা রোপণের মাত্র ৬০-৬৫ দিনের মাথায় তার ক্ষেত ভরে গেছে তরমুজে। এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তাও পেয়েছেন।
সাফল্যের গল্প শোনালেন কৃষক রেজাউল: তিনি বলেন,আমি ৩ বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বাণিজ্যিকভাবে কৃষি কাজ শুরু করি। আগে টমেটো, মরিচ ও বেগুনের মতো উচ্চ ফলনশীল ফসল চাষ করলেও এবারই প্রথম কৃষি অফিসের পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদ করেছি। বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ পাইকারি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। মাত্র ৩৩ শতাংশ জমি থেকে মোট ২ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে আমার নিট লাভ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা! এই সাফল্য দেখে আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
গ্রীষ্মকালীন তরমুজের এই বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা বলেন: জলবায়ু-সহনশীল ও গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম কৃষকদের আয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইউনাইটেড সীড কোম্পানি লিমিটেডের মার্কেটিং সেলস অফিসার পলাশ মল্লিক জানান, "কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় এই তরমুজ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। উন্নত জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে দারুণ লাভবান হচ্ছেন।"ডুমুরিয়ার উর্বর মাটি আর আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিডি.কম/রাজু
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম