লিয়াকত হোসেন রাজশাহী :রাজশাহীতে গায়ে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রী লিজা রহমানের আত্মহননের ঘটনায় পুুলিশের দেয়া তথ্যে গড়মিল রয়েছে। ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ তদন্ত) আল মাহমুদ ফয়জুল কবির বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আগামী রোববার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার নগরীর শাহ মখদুম থানা এলাকায় এক রেস্ট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনা তদন্তে শাহ মখদুম থানার দু’জন কন্সটেবল, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের চারজন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চারজন, নিহত ছাত্রীর বাবা-মাসহ কয়েকজন, তার কলেজের অধ্যক্ষসহ দু’জন, তার স্বামীর বাবা-মা, কলেজের অধ্যক্ষসহ দু’জনের সাথে তারা বিস্তারিত কথা বলেছেন। সবমিলিয়ে ঘটনায় পুলিশের দেয়া তথ্যে গড়মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তবে এখনই বিস্তারিত জানাননি। রোববার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সে প্রতিবেদনেই বিস্তারিত জানা যাবে।
এর আগে, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর নগরীর শাহ মখদুম থানায় স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করতে যান রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী লিজা রহমান। তবে পুলিশ অভিযোগ না নেয়ায় তিনি থানার সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গায়ে আগুনের পর আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে লিজার শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৬৪ অংশ পুড়ে যায়।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২রা অক্টোবর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কলেজছাত্রী লিজা। এ ঘটনায় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করে লিজার বাবা মো. আলম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে নগরীর শাহ মখদুম থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
মামলায় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ছাড়া শ্বশুর মাহবুবুল হক খোকন ও শ্বাশুড়ী নাজনীন আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের সবাই গ্রেফতার করে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম