প্রিন্ট এর তারিখ: July 20, 2026, 2:51 pm || প্রকাশের তারিখ: July 19, 2026, 1:00 pm
মোঃ হাসান, বান্দরবান: বান্দরবানের লামা উপজেলার ডলুছড়ি রেঞ্জ এলাকায় প্রজনন মৌসুম চলাকালীন কাঁচা বাঁশ কাটার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামা-গজালিয়া-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—বুড়ির ঝিরি, নোয়াপাড়া, ফারেংগা ব্রিজ, ডিসি রোডের রাবার বাগান এলাকা, বাইশফাঁড়ি, কম্পানিয়া, ডিগ্রিখোলা বাজার, আন্ধারী হিমছড়ি, আমতলী বাজার ও লম্বাখোলাসহ কোয়ান্টাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ কাঁচা বাঁশ মজুত করে রাখা হয়েছে। পরে এসব বাঁশ ছোট-বড় যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু বন কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি বা নীরব সমর্থনের কারণেই এসব কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলছে। এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, রেঞ্জ পর্যায়ে ওঠা অভিযোগগুলো উচ্চপর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাদের ভাষ্যমতে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ পৌঁছালেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন ধারণা স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময় বাঁশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় এ সময়ে অপরিপক্ব বাঁশ কাটা হলে বাঁশঝাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার ব্যাহত হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে বনজ সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা মনে করেন, কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত, কঠোর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আলতাফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”