প্রিন্ট এর তারিখ: July 21, 2026, 10:05 pm || প্রকাশের তারিখ: July 21, 2026, 12:33 pm
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহল–বাণিজ্যে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে মদ, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভোগ্য ও শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছসহ কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ৩০ দিন পর কার্যকর হবে। এর ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত তার দেশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা–মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) লঙ্ঘন করছে।
একই সঙ্গে তিনি কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার মন্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি। নতুন শুল্ক ইউএসএমসিএর আওতাভুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
আগে থেকেই পাল্টাপাল্টি শুল্ক
দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এ ছাড়া সফটউড কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা নির্বাচিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।
পুরোনো বিরোধেই নতুন উত্তেজনা
সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সোমবার স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে দাবানলের কোনো উল্লেখ নেই।
বরং গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহল নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে। গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএর বাইরে থাকা মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা বৈষম্যমূলক কর আরোপ করছে।
দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার (সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট) কারণে নির্ধারিত সীমার বেশি বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানিতে ৩০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক দিতে হয়।
এ ছাড়া গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রি কার্যত বন্ধ রয়েছে। কানাডার প্রাদেশিক নেতারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত, ধাতু ও মোটরযানের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করলে তারাও এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন।
ইউএসএমসিএ নিয়েও টানাপোড়েন
কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক কমাতে আলোচনার চেষ্টা করছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান রূপে ইউএসএমসিএ চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তি বহাল রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে পরিবর্তন আনতে চায়।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায়ের পর হোয়াইট হাউস অন্য আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী, যা বাণিজ্যিক বৈষম্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেস লেইং নতুন শুল্ক আরোপকে দুঃখজনক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি কার্যকরের আগে দুই দেশের আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতির আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিলের প্রধান ক্রিস সোয়ঙ্গারও সতর্ক করে বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।