আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: July 23, 2026, 1:58 pm || প্রকাশের তারিখ: July 23, 2026, 12:03 pm
ভারতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি সরকার
সম্প্রতি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও পুলিশের বাধা সত্ত্বেও ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি ছদ্ম-রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার জেন জি তরুণ ও শিক্ষার্থী নতুন দিল্লিতে রাজপথ উত্তপ্ত করে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের কর্মসংস্থানহীনতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব থেকে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের আগুনে এখন ঘি ঢেলেছে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। গত সোমবার শিক্ষার্থীরা পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। তখন পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে, যাতে শতাধিক পুলিশ ও আন্দোলনকারী আহত হন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সংস্থা 'ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট' ইতোমধ্যেই সামাজিক অসন্তোষ সূচকে ভারতকে "সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ" হিসেবে ঘোষণা করেছে।

অনলাইন ব্যঙ্গচিত্র থেকে বাস্তব রাজপথের সংগ্রাম: সংবাদ মাধ্যম সিএনবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিএ অলব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপ’-এর পার্টনার আত্মন ত্রিবেদী জানান, ২০২০-২০২১ সালের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের পর এই বিক্ষোভই মোদী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় জন-চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আন্দোলনের সূত্রপাত গত মে মাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে। এরপর ৬ জুন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মাঠে নামে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনটিকে সমর্থন জানিয়ে ২৫ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। বিক্ষোভে উপস্থিত থাকা ২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লাভ্য সিং বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সরকার তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। ক্ষোভ ও প্রবঞ্চনার অনুভূতির জায়গা থেকেই তরুণরা আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে।

কেন ‘কাকরোজ পার্টি’: বিপ্লবী এই আন্দোলনের নাম ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি বিতর্কিত প্রেক্ষাপট। গত ১৬ মে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে এই দলটি গঠন করেন। আদালতের একটি শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সাথে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যদিও পরবর্তীতে তিনি জানান তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই নামটিকে হাতিয়ার করেই তৈরি হয় অনলাইন রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র, যা রাতারাতি নেটদুনিয়ায় কোটি কোটি তরুণের নজর কাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে দলটির অনুসারী সংখ্যা ২২ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেলেও সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের তোপ ও সরকারের অবস্থান: শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি এখন সরগরম। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হন। তিনি অভিযোগ করেন যে, গত ১০ বছরে ভারতে প্রায় ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিজেপি জানিয়েছে যে এসব অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দেশের শিক্ষামন্ত্রী এক এক্স পোস্টে জানান, সরকার পার্লামেন্টে তরুণদের যেকোনো যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধান করতে শতভাগ প্রস্তুত। শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বা বিশৃঙ্খলার হাতিয়ার না হয়ে নিশ্চিত সমাধান পাওয়ার দাবিদার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অসন্তোষ কি ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে: আন্দোলনকারীদের দাবি, এই প্রতিবাদ এখন কেবল দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বেঙ্গালুরুসহ ভারতের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী বিশ্বখ্যাত সংস্থা 'ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট'-এর গবেষণা মতে, এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায় এখন আর অতীত সরকারের ওপর চাপানো কঠিন। ফলে আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম