প্রিন্ট এর তারিখ: August 6, 2026, 4:32 pm || প্রকাশের তারিখ: August 6, 2026, 11:13 am
কুমারখালীতে ৬ বছর ধরে চালহীন কৃষকদের বিশ্রামাগার: রোদ-বৃষ্টিতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন হাজারো কৃষক
কুমারখালীতে ৬ বছর ধরে চালহীন কৃষকদের বিশ্রামাগার: রোদ-বৃষ্টিতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন হাজারো কৃষক
বাপ্পি হোসেন; কুমারখালি (কুষ্টিয়া)প্রতিনিধি;
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চালবিহীন পড়ে আছে কৃষকদের একমাত্র বিশ্রামের ছাউনী ঘরটি। ২০২০ সালের আম্ফান ঝড়ে টিনের চাল উড়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার হাজারো কৃষক।রোববার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর এলাকার খরিলার বিলের এই চিত্র উঠে আসে।জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে টিনশেডের আধাপাকা এই ছাউনী ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঠে কাজের ফাঁকে কৃষকদের বিশ্রাম, খাওয়া-দাওয়া ও নামাজ পড়ার সুবিধার্থে এটি তৈরি করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ঘরটির চাল উড়ে যাওয়ার পর থেকে তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে শুধু ৯টি পাকা খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে।স্থানীয় কৃষক দুলাল সেখ, চয়েন উদ্দিন ও বদর উদ্দিন জানান, খরিলার বিলে হাজার হাজার বিঘা জমিতে প্রতিদিন শত শত কৃষক কাজ করেন। কিন্তু ছাউনী ঘরের চাল না থাকায় রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে তাদের কাজ করতে হয়। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে দৌড়ে বাড়ি যেতে হয়, যা বজ্রপাতের সময়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া মাঠে নামাজের সুব্যবস্থাও না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, চাল না থাকায় কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং সেখানে একটি পাকা স্থাপনা করা প্রয়োজন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কাওছার আলী বলেন, মাঠে কৃষকদের বিশ্রাম ও নিরাপত্তার জন্য ছাউনীটি অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত চাল নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং পরবর্তী অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে কৃষকদের স্বার্থে সেখানে স্থায়ী চাল অথবা স্থায়ী ছাদ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।