প্রিন্ট এর তারিখ: August 11, 2026, 7:43 pm || প্রকাশের তারিখ: August 11, 2026, 5:10 pm
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে কমিশনারের ঘোষিত কঠোর নীতির অংশ হিসেবে নগরজুড়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদক কেনাবেচা ও সেবন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ও বিশেষায়িত ইউনিট সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করছে। রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বিভাগভিত্তিক গ্রেফতার
ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এই বিভাগে ১২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওয়ারী বিভাগ থেকে ৭১ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৬ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৫৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫০ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৮ জন, রমনা বিভাগ থেকে ৪৩ জন এবং লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট একজনকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযানে উদ্ধার বিভিন্ন আলামত
পুলিশের এই সমন্বিত অভিযানে শুধু আসামি গ্রেফতার নয়, বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে ৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৯৫৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩০ বোতল এস্কাফ বা ফেনসিডিলজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল, পাঁচটি মোবাইল ফোন, দুটি গ্যাস লাইট, ছয়টি ফয়েল পেপার এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে পাঁচটি ককটেল সদৃশ বস্তুও উদ্ধার করা হয়।
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান ডিএমপি কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না—এমন কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় টহল জোরদার এবং অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিংয়ের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করছে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বিশেষ করে রাতে ও ভোরের দিকে ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
চেকপোস্টে তল্লাশি
অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার সময় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা
গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪ জনের মধ্যে বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মোট ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।