শার্শায় এসএসসি ও দাখিলে শতভাগ পাস নেই কোথাও, ৩ প্রতিষ্ঠানে ৪৪ জন শিক্ষার্থি সবাই ফেল
বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোরের শার্শায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের মুখ দেখেনি; উল্টো তিনটি প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। সব মিলিয়ে মাধ্যমিক ও সমমানের সার্বিক ফলাফলে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় ৩৩টি মাদরাসার মধ্যে বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা ও ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা।এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এবার ৮৩৭ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮১২ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৪২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন। দাখিলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০.৮৬ শতাংশে।
অন্যদিকে, সাধারণ স্কুল পর্যায়ে পাসের হার ৬৫.৩ শতাংশ হলেও সার্বিক চিত্র বেশ হতাশাজনক। ৩৫টি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এ ছাড়া অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। উপজেলায় মোট দুই হাজার ৩০০ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় দুই হাজার ২৬১ জন। পাস করেছে এক হাজার ৫০২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৬ জন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শার্শা উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম. সুলতান মাহমুদ ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে তুলনামূলক ভালো ফল করে শীর্ষে রয়েছে নাভারন বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এখান থেকে ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ জন পাস করেছে; পাসের হার ৯০.১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।
পর্যায়ক্রমে শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বেনাপোল মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় (পাসের হার ৮০.৮৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন)। শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় (পাসের হার ৭৬.৮২%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন),বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় (পাসের হার ৭৪.৪১%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন), বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পাসের হার ৭২.০০%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন)।
উপজেলার ৩টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও ফলাফলের খাতা সম্পূর্ণ শূন্য।
সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪ জন পরীক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক ছিলেন ৯ জন, কিন্তু পাস করতে পারেননি কেউই। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষক সংকটকে দায়ী করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই অনুপাতে শতভাগ ফেল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা ১২ জন শিক্ষকের অধীনে ১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা ৯ জন শিক্ষকের পাঠদানে ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি।
এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও ব্যবসায় মনোনিবেশ করাকে দায়ী করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের সময়মতো বিদ্যালয়ে না আসা, পরিচালনা কমিটিতে দলীয় প্রভাব বা প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি না থাকায় শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
তবে শিক্ষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না এবং অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়ালেখার খোঁজ নেন না। প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার জানানো হলেও অভিভাবকরা কার্যকর ভূমিকা রাখেন না বলে দাবি শিক্ষকদের। তবে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে বা পড়াশোনায় মনোযোগী করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামান জানান, সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়া বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিগত বছরের তুলনায় এবার অনেক খারাপ ফল করেছে।
তিনি বলেন,শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ফলাফল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কী কারণে এমন বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের অবশ্যই আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম