প্রিন্ট এর তারিখ: August 17, 2026, 2:26 pm || প্রকাশের তারিখ: August 17, 2026, 11:30 am
মার্কিন সেনাদের হত্যা কিংবা জীবিত আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির সময় শেষ হয়ে গেছে।
রোববার ১৬ আগস্ট তেহরানে জাতীয় সাংবাদিক দিবসের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আমির হাতামি। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের দেওয়া অনুদানের অর্থে মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করার জন্য এই পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।আমির হাতামির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা কিংবা জীবিত আটক করে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দিলে তাকে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এ কাজ করলে পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করা হবে।
পাশাপাশি ওই কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ দামে কিনে নিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।অনুষ্ঠানে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও জানান আমির হাতামি। তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবসহ শীর্ষ ছয়টি পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়ে ইরানের সেনাপ্রধান আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সফল হামলা চালিয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই হামলার কারণে যুদ্ধজাহাজটির যুদ্ধবিমান কিছু সময়ের জন্য উড্ডয়ন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
এ ছাড়া পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন বাহিনীর চলাচলের অনুমতি আর দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন আমির হাতামি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারই এই পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইরানি সেনাপ্রধানের এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো।
সূত্র: প্রেস টিভি