প্রিন্ট এর তারিখ: August 22, 2026, 1:37 am || প্রকাশের তারিখ: August 21, 2026, 11:56 pm
নাঈম বিশ্বাস, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার বৃহত্তম ও জনবহুল দৌলতপুর উপজেলা প্রতিষ্ঠার চার দশক পেরিয়ে গেলেও আজও স্থাপন করা হয়নি কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ৪৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রায় ৫ লাখ মানুষের এই জনপদে প্রায় ২৮টি হাটবাজার, শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিক থাকলেও আগুন লাগলে একমাত্র ভরসা ২০ কিলোমিটার দূরের ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে সামান্য আগুনও রূপ নেয় বড় ক্ষতিতে। ১৯৮৩ সালে দৌলতপুর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও আজও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি আলোর মুখ দেখেনি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেলেই প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অসহায় মানুষের সর্বস্ব। গত মার্চ মাসেই পিয়ারপুর ও রিফায়েতপুর ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত গত ৭ মাসে দৌলতপুর উপজেলায় ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৪৫টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি প্রায় ২৭ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৫৬টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ৬০টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা হয়েছিল। ২০০৯ সালে তারাগুনিয়া কৈপাল এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হলেও সেটির কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়ায় ৮২ শতক জমি বরাদ্দ পেলেও গাড়ি ও প্রকল্পের অভাবে কাজ শুরু হয়নি। ফলে এই স্টেশনের জন্য নির্ধারিত ১৬ জন কর্মী বর্তমানে জেলার অন্যান্য স্টেশনে সংযুক্ত রয়েছেন। তবে সম্প্রতি আশার আলো দেখা দিয়েছে। ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০ শতক জমির মধ্যে সম্প্রতি অর্পিত সম্পত্তি থেকে আরও ১৮ শতক জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ফলে জমির সংকট পুরোপুরি কাটল। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াদুদ হোসেন জানান, নির্ধারিত জমিতে থাকা পুকুরটি মাটি-বালু দিয়ে ভরাট করতে হবে। আমাদের প্রকল্প পরিচালক রয়েছেন এবং খুব দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ (বাচ্চু মোল্লা) বলেন, অনেক আগেই এখানে ফায়ার স্টেশন হওয়া উচিত ছিল। জমি-সংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করব। দৌলতপুরবাসীর একটাই দাবি—দীর্ঘ চার দশকের এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু করা হোক, যাতে আর কোনো সহায়-সম্বলহীন মানুষকে চোখের সামনে সর্বস্ব পুড়ে যেতে দেখতে না হয়।